
আকির হোসেন, মোহনগঞ্জ: নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পল্লিবিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের লাইনম্যান দীপক চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে মিটার পরিবর্তন, সংযোগের সেকশন বদল ও খুঁটি স্থানান্তরের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা নিলেও কাজ না করে দেওয়া এবং টাকা ফেরত না দেওয়ার সুনির্দিষ্ট একাধিক অভিযোগ এনে বাংলাদেশ পল্লিবিদ্যুদায়ন বোর্ডের (আরইবি) চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।গত ১৯ আগস্ট পৌর শহরের কাজিয়াটি এলাকার বাসিন্দা রতন মিয়া আরইবি চেয়ারম্যানের কাছে এই প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেন।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুন ঝড়ে রতন মিয়ার বৈদ্যুতিক মিটার নষ্ট হয়ে গেলে লাইনম্যান দীপক চন্দ্র দাস পাশের একটি দোকানে নিয়ে আবেদন ও ক্ষতিপূরণের কথা বলে তার কাছ থেকে ২ হাজার টাকা নেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও মিটার না পেয়ে রতন জোনাল অফিসে গিয়ে খোঁজ নিতে গেলে দীপকের একই ধরনের জালিয়াতির শিকার অন্যান্য গ্রাহকদের বিষয়ে জানতে পারেন। পরে বিষয়টি জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারকে (ডিজিএম) জানালে পরের দিনই নতুন মিটার দেওয়া হয়। তবে প্রদেয় ২ হাজার টাকা আর ফেরত পাননি তিনি। রতন মিয়া জানান, "আমি গরীব মানুষ, ঋণ করে টাকাটা দিয়েছিলাম। কোনো উপায় না পেয়ে আরইবি চেয়ারম্যানের কাছে বিচার চেয়েছি।"একই ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন বার্ত্তারগাতী এলাকার প্রিয়া আক্তার। ঝড়ে তাদের পাঁচটি মিটার নষ্ট হলে প্রতিটি মিটারের জন্য ১,৫০০ টাকা করে মোট ৭,৫০০ টাকা নেন ওই লাইনম্যান। পরবর্তীতে অফিসে যোগাযোগের পর নতুন মিটার বসানো হলেও দীপক টাকা ফেরত দেননি। এছাড়া বাহাম গ্রামের বাসিন্দা উজ্জ্বল মিয়ার ফিশারিতে ভোল্টেজ বাড়ানোর দোহাই দিয়ে এক খুঁটি থেকে অন্য খুঁটিতে সেকশন পরিবর্তন করে দেওয়ার বিনিময়ে দীপক দাস ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে লাইনম্যান দীপক চন্দ্র দাস বলেন, "রতনের অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য বসা হচ্ছে। বাকি বিষয়ে কথা বলার নিয়ম আমার নেই, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলবেন।"মোহনগঞ্জ পল্লিবিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মো. এমদাদুল হক জানান, বিষয়গুলো খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।নেত্রকোনা পল্লিবিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. আকরাম হোসেন জানান, আরইবি থেকে প্রেরিত অভিযোগের চিঠি পাওয়া গেছে। দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে সত্যতা প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




























