
সফিকুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ
কুমিল্লার মুরাদনগর থানা এলাকায় মাদকের বিস্তার ঠেকাতে মুরাদনগর থানা পুলিশের 'অল-আউট অ্যাকশন' চলছে। মাদক বহনকারী ও সেবনকারীদের পাশাপাশি এর নেপথ্যে থাকা সরবরাহকারী ও ব্যবসায়ীদের শনাক্ত করতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। প্রতি রাতে অভিযান চালিয়ে ধরা হচ্ছে বহু মাদক কারবারি ও মাদকসেবীসহ মাদকের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের। পুলিশের এমন ধারাবাহিক অভিযানে এলাকায় মাদকের সহজলভ্যতা কমে আসায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। একই সঙ্গে অভিযান আরও জোরদার ও নিয়মিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
থানা সূত্রে জানা গেছে, মাদকের বিস্তার রুখতে চলতি আগস্ট মাসজুড়ে ‘অল-আউট অ্যাকশন’ ও বিশেষ সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে পুলিশ। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ও কুমিল্লার পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় মুরাদনগরের বিভিন্ন ইউনিয়নে জনসচেতনতামূলক র্যালি ও সমাবেশ এবং পর্যায়ক্রমে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি তথ্যদাতাদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে থানায় স্থাপন করা হয়েছে বিশেষ ‘গোপন অভিযোগ বক্স’, যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ নাম প্রকাশ না করেই তথ্য দিতে পারছেন।
মুরাদনগর সদরের বাসিন্দা রফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন বলেন, মুরাদনগর থানায় মাদকের বিরুদ্ধে এমন কঠোর অভিযান এর আগে কখনো দেখিনি। থানার বর্তমান ওসি সাহেব মাদক ও মাদকের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যে ধরনের কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এভাবে সারা বছর চলতে থাকলে এলাকা থেকে মাদক সম্পূর্ণরূপে নির্মূল না হলেও নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।
মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, “মুরাদনগরকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তবে কেবল আইনি প্রক্রিয়ায় মাদক পুরোপুরি নির্মূল সম্ভব নয়; প্রয়োজন পারিবারিক ও সামাজিক প্রতিরোধ।
তিনি আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন ইউনিয়নে মুরাদনগর থানার পক্ষ থেকে মাদকবিরোধী র্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মসজিদসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং স্কুল-কলেজে মাদকবিরোধী সভা ও সেমিনার করা হচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের ছাড়িয়ে নিতে কেউ সুপারিশ বা তদবির করলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান ও কঠোর নজরদারির কারণে মুরাদনগরে মাদকের বিস্তার আগের তুলনায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে মাদক পুরোপুরি নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তাদের প্রত্যাশা, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের এই সাঁড়াশি অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।




























