
পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:সড়কের গর্তে জমে থাকা পানি। পাশ দিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। কেউ গর্ত এড়িয়ে চলছে, কেউ ঝাঁকুনিতে সামলে নিচ্ছে গাড়ি। দীর্ঘদিন ধরে এমন দুর্ভোগের সঙ্গী হয়ে আছে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার মঠখোলা এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক।সংস্কারের অপেক্ষায় থাকতে থাকতে যখন মানুষের ভোগান্তির শেষ হচ্ছিল না, তখন বেলচা হাতে নিজেই সড়কে নেমে পড়লেন এক যুবক।প্রচণ্ড রোদের মধ্যে শ্রমিকের অপেক্ষা না করে নিজের হাতেই সড়কের গর্তে মাটি-বালু ফেলতে শুরু করেন কিশোরগঞ্জ জেলা যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ রমজান।বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে পাকুন্দিয়া উপজেলার মঠখোলা এলাকায় কটিয়াদী-টোক-কাপাসিয়া-গাজীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পল্লী বিকাশ কেন্দ্র সংলগ্ন সানলাইট প্রি-ক্যাডেট স্কুলের সামনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ব্যক্তিগত অর্থায়নে এ উদ্যোগ নেন তিনি।হাতে বেলচা, সামনে সড়কের বড় গর্ত। একের পর এক গর্তে মাটি ও বালু ফেলছেন রমজান। কোনো শ্রমিক নিয়োগ না করে নিজেই কাজ করছেন—এ দৃশ্য দেখতে সেখানে ভিড় করেন স্থানীয়রাও।স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দ ও বড় বড় গর্তে ভরা। গত ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কটিয়াদী সফরকে কেন্দ্র করে সড়কের কিছু অংশ দ্রুত সংস্কার করা হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বৃষ্টির পানিতে অল্প সময়ের মধ্যেই ভরাট করা মাটি ও বালু সরে গিয়ে আবারও তৈরি হয়েছে গর্ত।বৃষ্টির সময় এসব গর্তে পানি জমে থাকায় যানবাহন চলাচল যেমন ব্যাহত হয়, তেমনি কাদা-পানি ছিটকে ভোগান্তিতে পড়েন পথচারীরা। রাতে গর্তগুলো স্পষ্ট দেখা না যাওয়ায় বাড়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও।স্থানীয় বাসিন্দা জান্নাতুল কিবরিয়া বলেন, মঠখোলা থেকে কটিয়াদী পর্যন্ত সড়কটির অবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই খারাপ। কয়েক দফা সংস্কার করা হলেও কিছুদিন পর আবারও গর্ত তৈরি হয়। বিশেষ করে পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের সামনের অংশটি রাতে চলাচলের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তারা সাময়িক সংস্কার নয়, সড়কটির স্থায়ী সমাধান চান।যাত্রী নজরুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়। বড় বড় গর্তের কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে রাতে গর্ত দেখা না যাওয়ায় সবসময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।অটোরিকশাচালক জব্বার বলেন, গর্ত এড়িয়ে গাড়ি চালাতে গিয়ে অনেক সময় নিয়ন্ত্রণ রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে গাড়ির ক্ষতির পাশাপাশি যাত্রীদেরও ভোগান্তি হয়।স্থানীয়দের ভাষ্য, মঠখোলা-কটিয়াদী হয়ে টোক, কাপাসিয়া ও গাজীপুরের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করে। দীর্ঘদিনের বেহাল অবস্থার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগপথ এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।সড়ক সংস্কারে নিজেই এগিয়ে আসা হাসান আহমেদ রমজান বলেন, “আমি এই এলাকারই একজন নাগরিক। মানুষের দুর্ভোগ নিজের চোখে দেখেছি। তাই শুধু সরকারি উদ্যোগের অপেক্ষায় বসে না থেকে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি।”তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় সড়ক সংস্কার করা হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না। গত ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সংস্কার করা অংশও এক-দুই দফা বৃষ্টির পর নষ্ট হয়ে গেছে।সড়কের সংস্কারকাজের মান যাচাইয়ের দাবিও জানান তিনি। রমজান বলেন, বরাদ্দ ও ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী কাজ হয়েছে কি না এবং কী ধরনের উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে—এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরেজমিনে পরিদর্শন করে খতিয়ে দেখা উচিত।তিনি আরও বলেন, “মানুষের কষ্টের কথা বিবেচনা করেই ব্যক্তিগত অর্থায়নে এই কাজ শুরু করেছি। যতটুকু সামর্থ্য আছে, তা দিয়ে এলাকার মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করব।”দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অপেক্ষায় থাকা সড়কের গর্তে যখন পানি জমে মানুষের চলাচল কঠিন হয়ে উঠেছে, তখন কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়—একজন স্থানীয় নাগরিকের হাতে বেলচাই যেন হয়ে উঠল প্রতিবাদের ভাষা এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।




























