
মোঃ কাওছার আহম্মেদ, গাইবান্ধা ঃ গাইবান্ধার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের মধ্য কুমেদপুরে দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। গ্রামবাসীদের চলাচলের দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত একটি স্থায়ী ও ন্যায়সংগত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন ৫ নম্বর বল্লমঝাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুলফিকার রহমান। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে রাস্তার সমস্যা দ্রুত সমাধান ও স্থায়ীভাবে চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবিতে মধ্য কুমেদপুর গ্রামের শতাধিক বাসিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ ঘেরাও করেন। পরে পরিষদের সামনে মানববন্ধন করে তারা বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের একটি চলাচলের রাস্তা নিয়ে জটিলতা রয়েছে। প্রায় এক বছর ধরে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে স্থানীয়ভাবে বৈঠক, আমিন দিয়ে জমি পরিমাপ এবং সংশ্লিষ্ট উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, রাস্তার কিছু অংশের সীমানা ও জমির মালিকানা নিয়ে মতবিরোধ থাকায় পূর্ণাঙ্গভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, কারও জমি দখল বা জোরপূর্বক জায়গা নেওয়ার মাধ্যমে নয়; জমির প্রকৃত অবস্থান যাচাই, সংশ্লিষ্টদের মতামত এবং প্রচলিত আইন অনুসরণ করেই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা চলছে। সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রামের মূল পাকা সড়ক থেকে একটি বাঁশঝাড় পার হয়ে প্রায় ৩০০ মিটার রাস্তা গ্রামের ভেতরের দিকে চলে গেছে। বিভিন্ন স্থানে রাস্তার প্রস্থ আনুমানিক ৭ থেকে ৮ ফুট। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা গ্রামের মানুষের চলাচলের সুবিধার কথা বিবেচনা করে নিজেদের জায়গা থেকে রাস্তার জন্য জায়গা ছেড়ে দেওয়ার পাশাপাশি গাছ ও বাঁশঝাড় সরিয়ে দিয়েছেন। এতে রাস্তা প্রশস্ত ও চলাচলের উপযোগী করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে জমির সীমানা নিয়ে মতবিরোধ থাকায় বিষয়টি এখনো পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি। ৫ নম্বর বল্লমঝাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুলফিকার রহমান বলেন, রাস্তার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমি বিষয়টি নিয়ে এসিল্যান্ড ও ইউএনও মহোদয়কে জানিয়েছি। স্থানীয়ভাবে আমিন দিয়ে জমি পরিমাপ করে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি। কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি দখল করে রাস্তা করার প্রশ্নই আসে না। জমির প্রকৃত অবস্থান ও আইনগত বিষয় যাচাই করেই একটি স্থায়ী সমাধান করা হবে।” চেয়ারম্যান আরও বলেন, “গ্রামবাসীর চলাচলের দুর্ভোগ আমরা বুঝতে পারছি। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। রাস্তার সংস্কার ও চলাচলের উপযোগী করার বিষয়েও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি।” থানায় অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “গ্রামবাসীর নামে যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেটি নিয়েও ওসির সঙ্গে কথা বলে প্রকৃত বিষয়টি জানার চেষ্টা করব। কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।” মধ্য কুমেদপুর এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য সোহেল রানা আকন্দ (শাহজাহান) বলেন, “রাস্তার বিষয়টি নিয়ে আমরা শুরু থেকেই স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করছি। চেয়ারম্যান সাহেব বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন এবং প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও অবহিত করেছেন।” তিনি বলেন, “গ্রামের মানুষের চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি কারও বৈধ জমির অধিকারও ক্ষুণ্ন করা যাবে না। তাই আইন ও ন্যায়সংগত পদ্ধতিতে সমাধান করাই আমাদের লক্ষ্য। চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।” এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাস্তার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আলোচনা হয়েছে। আমিন দিয়ে জমি পরিমাপ করে বাস্তব অবস্থা যাচাইয়ের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মতে, শুধু কোনো এক পক্ষের দাবি বা অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা সম্ভব নয়। জমির মালিকানা, রাস্তার সীমানা, দীর্ঘদিনের ব্যবহার এবং স্থানীয় মানুষের চলাচলের প্রয়োজন—সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে রাস্তার প্রকৃত সীমানা ও প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করে এমন একটি স্থায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, যাতে একদিকে গ্রামের মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত হয়, অন্যদিকে কোনো ব্যক্তির বৈধ সম্পত্তির অধিকারও ক্ষুণ্ন না হয়।




























