
আজিজুল হাকিম তুহিন, লামা
পাহাড় মানেই সবুজের সমারোহ, নির্মল বাতাস আর প্রকৃতির শান্ত ছোঁয়া। কিন্তু সেই পাহাড় আজ ধীরে ধীরে হারাচ্ছে তার স্বাভাবিক রূপ। নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে একসময়কার সবুজে মোড়া পাহাড় এখন পরিণত হচ্ছে ন্যাড়া, অনুর্বর ভূমিতে। এতে শুধু পরিবেশ নয়, সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পাহাড়ি এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা।
পাহাড়ে গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গাছ মাটি ধরে রাখে, ভূমিধসের ঝুঁকি কমায় এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে সহায়তা করে। পাশাপাশি গাছ কার্বন শোষণ করে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব কমায় এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে। পাহাড়ে গাছ কমে গেলে মাটির উর্বরতা হ্রাস পায়, নদী-ঝিরিতে পানির প্রবাহ কমে যায় এবং খরা ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ে।
ব্যবসায়ী চক্র পাহাড় কেটে ও গাছ নিধন করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছে। এতে পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধ্বংসের পাশাপাশি মানুষের বসবাসও ঝুঁকির মুখে পড়ছে। আগে যেখানে সবুজ পাহাড়ের দিকে তাকালে মন ভরে যেত, এখন সেখানে দেখা যাচ্ছে ধুলোময়, বিবর্ণ দৃশ্য। হারিয়ে যাচ্ছে সেই শান্তিময় পরিবেশ ও শীতল বাতাস।
পরিবেশবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে পাহাড়ি অঞ্চল মরুভূমির মতো রূপ নিতে পারে। তাই পাহাড় রক্ষায় কঠোর আইন প্রয়োগ এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে।
পাহাড় বাঁচলে পরিবেশ বাঁচবে, আর পরিবেশ বাঁচলেই টিকে থাকবে মানুষের জীবন। এখনই সময় সচেতন হওয়ার—নইলে সবুজ পাহাড় হারিয়ে যাবে ইতিহাসের পাতায়।





























