
আহম্মদ কবির,স্টাফ রিপোর্টার: সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরের অরক্ষিত নজরখালি বাঁধে অবশেষে শেষ রক্ষা হলো না।বাঁধের খোলা প্রবেশ মুখ দিয়ে অবাধে পানি প্রবেশ করায় হাওর পাড়ের ৮২টি গ্রামের একমাত্র বোরো ফসল মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।গত কয়েকদিন ধরেই ওই প্রবেশ পথ দিয়ে হাওরে পানি ঢুকছিল। তবে সময়মতো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরিস্থিতি এখন ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। ইতোমধ্যে হাওরের বিভিন্ন ফসলি জমিতে পানি প্রবেশ শুরু হয়েছে,যা অল্প সময়ের মধ্যেই বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।সরেজমিনে দেখা গেছে,কৃষকরা শেষ চেষ্টা হিসেবে মাটির বস্তা ও বাঁশ দিয়ে প্রবেশ মুখ বন্ধ করার প্রাণপণ চেষ্টা চালালেও পানির প্রবল স্রোতের কাছে তা টিকেনি। ফলে ধীরে ধীরে ফসলি জমির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে পানি,আর কৃষকদের চোখে-মুখে ভাসছে হতাশা ও অনিশ্চয়তা।বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের আমতরপুর গ্রামের কৃষক বাদল মিয়া বলেন,আমাদের একমাত্র বোরো ফসল বাঁচানোর জন্য অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু খোলা প্রবেশ মুখ দিয়ে পানি ঢুকে পড়ায় এখন সব কিছু হারানোর শঙ্কায় আছি।হাওর পাড়ের রংচি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হাই বলেন,প্রতি বছরই আমরা নিজেরা বাঁধ দেই। এতে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হই। সরকারি কোনো বরাদ্দ না থাকায় এ বছর আরও বিপাকে পড়েছি। এখন বাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে পড়ায় ফসল রক্ষা করা কঠিন হয়ে গেছে।মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি এমারুল হক শান্ত বলেন,নজরখালি বাঁধটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত ছিল। খোলা প্রবেশ মুখ বন্ধ না করায় আজ এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো হাওরের ফসল তলিয়ে যেতে পারে।স্থানীয়দের অভিযোগ,হাওর পাড়ের ৮২টি গ্রামের দরিদ্র মানুষের একমাত্র বোর ফসল আগাম বন্যা থেকে রক্ষা করে এই নজরখালি বাঁধ,কিন্তু জনগুরুত্বপূর্ণ এই বাঁধটি সরকারের অবহেলায় রয়েছে এ কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।তারা জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন,যাতে অন্তত অবশিষ্ট ফসল রক্ষা করা সম্ভব হয়।




























