
পৃথিবীর
বুকে আজকের এই সমৃদ্ধ সভ্যতার প্রতিটি ইট বসানো হয়েছে শ্রমিকের ঘামে। সভ্যতার যত জৌলুশ,
প্রগতির যত উজ্জ্বল চিত্র- তার পেছনে আছে অক্লান্ত পরিশ্রমী মানুষের নীরব আত্মত্যাগ।
তাই ১ মে, আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস, কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি হলো শ্রমের মর্যাদা
ও শ্রমিকের ন্যায্য অধিকারের স্বীকৃতি প্রদানের দিন। এই দিবসে শিক্ষার্থীদের চোখে ফুটে
উঠেছে শ্রমিক জীবনের বাস্তব চিত্র, তাদের চাওয়া-পাওয়ার কথা ও আমাদের করণীয়ের দিকনির্দেশনা।
কথা বলেছেন মোঃ জুবাইল আকন্দ…
শ্রমিকের আত্ম-চিৎকার
মোঃ
সায়েম
শিক্ষার্থী,
চট্টগ্রাম কলেজ
পৃথিবীর
সবচেয়ে উৎকৃষ্ট প্রাণী হলো মানুষ। মানব সভ্যতার প্রতিটি অগ্রগতির পেছনে রয়েছে শ্রমিকের
অক্লান্ত শ্রম। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য, শ্রমিকের শ্রমের সঠিক মূল্য আজ তলানিতে। সারাদিন
কঠোর পরিশ্রমের পরও তাদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত হয় না; জীবন চলে যায় বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা
ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের পেছনে। তাদের নেই নিরাপদ জীবন, নেই জীবন বীমার
সুযোগ। শ্রমিক দিবসে কেবল অনুভূতির কথা বলার পরিবর্তে চাই—শ্রমিকের সঠিক মজুরি,
নিরাপদ জীবন এবং ন্যায্য অধিকার।
শ্রমিকের প্রতি
বৈষম্যহীন মনোভাব সৃষ্টি হোক
কাজী
মালিহা আক্তার
শিক্ষার্থী,
চট্টগ্রাম কলেজ
সভ্যতা
গড়ার ইতিহাসে শ্রমিকের অবদান অনস্বীকার্য। কিন্তু সমাজের এক শ্রেণি শ্রমিকদের অবমূল্যায়ন
করে চলেছে। সময়মতো বেতন না পাওয়া, অতিরিক্ত শ্রমের চাপ, কর্মক্ষেত্রে অসম্মানজনক আচরণ—এসবই শ্রমিক জীবনের
কঠিন বাস্তবতা। বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের জন্য শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিকদের
নিজেদের কথা বলার সুযোগ দিতে হবে এবং সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করতে হবে।
শ্রমিকদের প্রতি
শ্রদ্ধা ও দায়বদ্ধতার আহ্বান
সাব্বির
হাসান নিরব
শিক্ষার্থী,
বাজিতপুর সরকারি কলেজ, কিশোরগঞ্জ
যাদের
অক্লান্ত পরিশ্রমে গড়ে ওঠে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের ভিত্তি, তারা কেবল কলকারখানার
শ্রমিক নয়; কৃষক, রিকশাচালক, গৃহকর্মী—সকলেই শ্রমিক শ্রেণির
অন্তর্ভুক্ত। ইসলামে বলা হয়েছে, “শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার পারিশ্রমিক প্রদান
করা উচিত।” অথচ আজও সমাজে শ্রমিকরা সবচেয়ে অবহেলিত। সময়মতো ন্যায্য পারিশ্রমিক ও সম্মান
দেওয়া ছাড়া একটি সভ্য সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
শ্রমিকদের প্রতি
দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হোক
সুরাইয়া
আফরিন হিয়া
শিক্ষার্থী,
সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া
বিদ্রোহী
কবি নজরুল বলেছিলেন, “"রাজপথে তব চলিছে মোটর, সাগরে জাহাজ চলে/রেলপথে চলে বাষ্প-শকট,
দেশ ছেয়ে গেল কলে/বল ত এ-সব কাহাদের দান!/তোমার অট্টালিকা কার খুনে রাঙা?/ ঠুলি খুলে
দেখ, প্রতি ইটে আছে লিখা।” সত্যিই, সমাজ সভ্যতার নির্মাণে শ্রমিকদের অবদান অপরিসীম।
কিন্তু যুগের পর যুগ ধরে শ্রমিকরা বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে। প্রাপ্য মজুরির জন্য আন্দোলন
করতে হয়, সম্মানের বদলে সহ্য করতে হয় অবহেলা। আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব ঘর থেকে সমাজের
প্রতিটি শ্রমিকের প্রতি সম্মান দেখানো। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে একটাই শপথ—শ্রমিকের ন্যায্য
অধিকার প্রতিষ্ঠা ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন।
ঘামের গল্পেই
সভ্যতার শুরু
নুসরাত
জাহান জেরিন
শিক্ষার্থী,
ব্রাহ্মণবাড়িয়া আইন কলেজ
শ্রমিক
হলো আমাদের সমাজের নীরব স্থপতি। অট্টালিকার প্রতিটি ইট, কারখানার প্রতিটি যন্ত্র, ক্ষেতের
প্রতিটি ধানগাছের পেছনে আছে শ্রমিকের ঘামের গল্প। তাঁদের ঘাম ঝরানো জীবনের বিনিময়ে
আমাদের আধুনিক জীবনযাত্রা। তাই শ্রমিক দিবস শুধু ছুটির দিন নয়, তাঁদের প্রতি চিরঋণ
স্বীকারের দিন। আমাদের উচিত সবসময় শ্রমিকদের অবদানকে কৃতজ্ঞচিত্তে সম্মান জানানো এবং
তাদের ন্যায্য মর্যাদা নিশ্চিত করা।
শ্রমিক
শ্রেণি হলো সমাজের ভিত, সভ্যতার মূলে যাঁরা, তাঁরাই আজও অবহেলার শিকার। উন্নত সমাজ
গঠনের প্রথম শর্ত হলো শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করা এবং তাঁদের যথাযোগ্য সম্মান দেওয়া।
শ্রমিক দিবসের তাৎপর্য কেবল একদিনের আনুষ্ঠানিকতা নয়—বরং প্রতিদিনের
জীবনে শ্রমিকের প্রতি সম্মান, মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার নিরলস চেষ্টাই হোক আমাদের
অঙ্গীকার।






































