
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) মেগা প্রকল্পের ৯ শতাংশ ঘুষ চাওয়ার অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও পরিকল্পিত অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন উপাচার্য ডা. জাওয়াদুল হক। তিনি বলেন, একটি সুসংগঠিত অপরাধী চক্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চরিত্রহননের উদ্দেশ্যে এই মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।
বুধবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। গত ২ মার্চ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত দুর্নীতির অভিযোগের জবাবে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে উপাচার্য জানান, সংবাদে অভিযোগকারী হিসেবে ‘জেনিথ কর্পোরেশন’ ও ‘তাবাসসুম এন্টারপ্রাইজ’ নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এই দুটি প্রতিষ্ঠান এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণই করেনি।
উপাচার্য প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘যেখানে কোনো প্রতিষ্ঠান দরপত্রেই অংশ নেয়নি, সেখানে তাদের কাছে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ তোলা হাস্যকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’
উপাচার্য দাবি করেন, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অবৈধ হস্তক্ষেপ করতে না পেরেই একটি মহল ক্ষুব্ধ হয়ে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, জেনিথ কর্পোরেশনের মালিক আতাউর রহমান টিপু সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর) লঙ্ঘন করে টেন্ডার ডাটা শিট (টিডিএস) পরিবর্তনের জন্য তাকে দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিচ্ছিলেন। বিশেষ করে বড় প্রকল্পের ক্ষেত্রে ‘স্পেসিফিক এক্সপেরিয়েন্স’ কমানোর জন্য এই চাপ দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নিয়মবহির্ভূত দাবি প্রত্যাখ্যান করায় গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ ও কলের মাধ্যমে উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
ডা. জাওয়াদুল হক বলেন, ‘আমাকে শারীরিক লাঞ্ছনা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এসবের ডিজিটাল প্রমাণ আমাদের কাছে সংরক্ষিত আছে এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।’
উপাচার্য আরও জানান, ‘এম জামাল কোং’ নামে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানও একই ধরনের দাবি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করেছিল। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিগরি ব্যাখ্যায় সন্তোষ প্রকাশ করে টেন্ডার প্রক্রিয়া চালু রাখার নির্দেশনা দিয়েছে।
ডা. জাওয়াদুল হক অভিযোগ করেন, সবখানে ব্যর্থ হয়ে একটি মহল এখন সংবাদমাধ্যমকে ব্যবহার করে তাকে পদচ্যুত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিকে উপাচার্য পদে বসিয়ে অবৈধভাবে ঠিকাদারি কাজ হাতিয়ে নেওয়া।
তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেগা প্রকল্প স্বচ্ছতার সঙ্গেই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কোনো ধরনের হুমকি বা অপপ্রচারে প্রশাসন নীতিগত অবস্থান থেকে সরে আসবে না। এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যের পর উপাচার্য সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।






































