
স্টাফ রিপোর্টার:
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার হাওরাঞ্চল বর্তমানে এক বড় উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। মাটিয়ান হাওরের আলমখালী বাঁধ এখনও অসম্পূর্ণ, আর শনির হাওরের আহাম্মক খালী বাঁধও ভাঙনের শঙ্কা সৃষ্টি করছে। হাওরপাড়ের লক্ষাধিক কৃষক আতঙ্ক ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। ফসল তাদের বছরের আয়,পরিবারের রুটি-রুজি এবং সন্তানদের পড়াশোনার একমাত্র ভরসা।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, ফসল ঘরে তোলার এই সময় বাঁধ নির্মাণের ধীরগতি, প্রশাসনের অনুপস্থিতি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদাসীনতা তাদের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি)এর কাজের ধীরগতি কৃষকদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ছোট-বড় ২৩টি হাওরে প্রায় ১৮,০০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উচ্চ ফলনশীল ধান বেশি আবাদ হওয়ায় প্রাক্কলন অনুযায়ী প্রায় তিন শত কোটি টাকার ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। মাটিয়ান ও শনির হাওর সবচেয়ে বড় এবং ফসলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে,মাটিয়ান হাওরের ধরুন্দ ও ইউনপুর গ্রাম সংলগ্ন ৮৮ নং প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি)এর ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতে অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিবাদে কৃষকরা মানববন্ধন করেছেন। লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মাটিয়ান ও শনির হাওরের বাঁধ দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। নয়তো ফসলের ক্ষতি অপ্রতিরোধ্য হবে। হাওরপাড়ের মানুষ আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, ফসল রক্ষা করবে এবং কৃষকের পরিশ্রম ও স্বপ্নকে মর্যাদা দেবে।




























