
স্টাফ রিপোর্টার:
বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা পাওয়া টাঙ্গুয়ার হাওরে মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত পরিবেশ ধ্বংসাত্মক প্লাস্টিকের কিরণমালা ছাই অবাধে প্রবেশ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে হাওরের জীববৈচিত্র্য, জলজ প্রাণী ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুরসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলা থেকে নৌকাযোগে এসব প্লাস্টিকের কিরণমালা ছাই সরাসরি টাঙ্গুয়ার হাওরে আনা হচ্ছে। প্রতিদিন ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে স্টিলবডি নৌকায় বোঝাই করে হাজার হাজার ছাই হাওরের দিকে প্রবেশ করে। এসব নৌকা গোলাবাড়ি আনসার ক্যাম্পের সামনে দিয়ে হাওরের ভেতরে ঢুকে হাওরপাড়ের বিভিন্ন গ্রাম ও হাটবাজারে পৌঁছে। পরে সেখান থেকে এসব প্লাস্টিকের ছাই জেলেদের কাছে বিক্রি বা সরবরাহ করা হয় এবং জেলেরা সেগুলো মাছ ধরার কাজে ব্যবহার করেন।
স্থানীয়দের তথ্যমতে,বর্ষা মৌসুমে পানি প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই টাঙ্গুয়ার হাওর এলাকায় কয়েক লক্ষাধিক প্লাস্টিকের কিরণমালা ছাই ঢুকে পড়ে। এসব প্লাস্টিক ব্যবহার করে জেলেরা মাছ আহরণ করেন। তবে মাছ ধরা শেষে অনেকেই এসব প্লাস্টিকের ছাই হাওরের পানিতেই ফেলে রেখে যান। ফলে ধীরে ধীরে এসব প্লাস্টিক পানিতে জমে হাওরের পরিবেশের জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে উঠছে।
পরিবেশবিদদের মতে, প্লাস্টিকজাত এই কিরণমালা দীর্ঘদিন পানিতে থেকে যায় এবং সহজে পচে না। এর ফলে পানির স্বাভাবিক গুণাগুণ নষ্ট হয় এবং হাওরের তলদেশে প্লাস্টিক জমে জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর স্বাভাবিক জীবনচক্র ব্যাহত করে। অনেক সময় মাছ, কচ্ছপ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী এসব প্লাস্টিকে আটকে মারা যায় বা খাদ্য ভেবে খেয়ে ফেলে, যা তাদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
এছাড়া প্লাস্টিক পানিতে দীর্ঘদিন থাকার ফলে তা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণায় (মাইক্রোপ্লাস্টিক) ভেঙে গিয়ে পানির সঙ্গে মিশে যায়। এই মাইক্রোপ্লাস্টিক মাছের শরীরে প্রবেশ করে খাদ্যচক্রের মাধ্যমে মানুষের শরীরেও পৌঁছাতে পারে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে। একই সঙ্গে এসব প্লাস্টিক হাওরের পানিপ্রবাহ ব্যাহত করে এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়।
স্থানীয়দের মতে,জেলেদের হাতে পৌঁছানোর আগেই যদি টাঙ্গুয়ার হাওরে প্রবেশের সময় এসব প্লাস্টিকের কিরণমালা ছাই আটক করা যায়, তবে খুব সহজেই বন্ধ করা সম্ভব এই পরিবেশ ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম।টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল।




























