
চবি প্রতিনিধি
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা দুপুর ২:৩০ এর শাটলে ষোলোশহর স্টেশনে এসে জমায়েত হয়। সেখান থেকে পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত মোতাবেক লংমার্চ করে শহরের দুই নাম্বার গেট অবরোধ করে।
রবিবার (৭-ই জুলাই ২০২৪) বেলা ৩ টায় চট্টগ্রামের ষোলোশহর রেল স্টেশনে মানববন্ধন করে বেলা ৪:১০ এ চট্টগ্রাম শহরের দুই নাম্বার গেট এলাকা অবরোধ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা।
সমাবেশে এক শিক্ষার্থী বলেন "এইরকম বৈষম্যমূলক কোটা প্রথা আমরা মানবোনা। পৃথিবীর আর কোথাও এমন বৈষম্যমূলক কোটা প্রথা নাই, আমরা ৫৬% কোটা বৈষম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি। দাবী না মানা পর্যন্ত রাজপথ ছাড়ছি না, ইনশাআল্লাহ।"
আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, "সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল করতে হবে। আমরা আজ তৃতীয় দিনের মত আন্দোলন করছি। শিক্ষার্থীরা জেগেছে উঠেছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে, তাহলে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীনের পর আমাদের সাথে কেন বৈষম্য করা হচ্ছে? আমরা ৫৬ শতাংশ কোটা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বো না।"
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, "১৯৭২ সালের সেপ্টেম্বরে বঙ্গবন্ধু মুক্তিযোদ্ধা কোটা তৈরী করেছিলেন অনগ্রসর মুক্তিযোদ্ধাদের চাকরির জন্য, জাতীয় পরিষদ বিতর্কের কোথাও উল্লেখ নাই মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের কোটা দেওয়ার কথা, তাহলে স্বাধীনতার ৫৩ বছর পর কেন কোটা বৈষম্য নিয়ে আমাদের আন্দোলন করতে হবে? আমরা এই বৈষম্যের নিরসনে যা যা করা দরকার তাই করবো ইনশাআল্লাহ!"
সন্ধ্যা ছয়টায় শিক্ষার্থীরা দুই নাম্বার গেট এলাকা ছেড়ে লালখানের দিকে লংমার্চ করে এগিয়ে যায়।
এসময়ে শিক্ষার্থীরা ‘এসো বোন এসো ভাই, রাজপথে ভয় নাই’, ‘সারা বাংলা খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’, ‘মেধা না কোটা? মেধা- মেধা’, ‘মেধাবীদের কান্না, আর না, আর না’, ‘আপোষ না সংগ্রাম, সংগ্রাম-সংগ্রাম’, কোটার প্রথার বিরুদ্ধে-লড়াই হবে একসাথে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের ৪ দফা দাবিতে একযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অধিকাংশ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় দেশের বিভিন্ন জায়গায় সড়ক অবরোধ করেছে।
শিক্ষার্থীদের ৪ দফা দাবি গুলো হলো— এক. ২০১৮ সালে ঘোষিত সরকারি চাকুরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখতে হবে। দুই. ২০১৮ এর পরিপত্র বহাল সাপেক্ষে কমিশন গঠন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি চাকুরিতে (সকল গ্রেডে) অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দিতে হবে এবং সংবিধান অনুযায়ী কেবল অনগ্রসর ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করা যেতে পারে। তিন. সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না এবং কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদগুলোতে মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দিতে হবে। চার. দূর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।"







































