
সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে ভারতকে বাড়তি সুবিধা দেয় আওয়ামী লীগ সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় শূন্যরেখায় কাঁটাতারের বেড়া দিচ্ছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)। এ কথা জানিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুতই দুই দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনার সব চুক্তি ও সমঝোতা নতুন করে মূল্যায়ন করা জরুরি।
গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়াসহ নানা ইস্যুতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের টানাপড়েন শুরু হয়। এরপর থেকে সীমান্তে উত্তেজনা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশের তিনটি জেলার সীমান্তে অনুমতি ছাড়া ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ বাঙ্কার-বেড়াসহ কিছু স্থাপনা তৈরি করতে গেলে আপত্তি তোলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এছাড়াও ফসল ও গাছ কাঁটাসহ ছোটখাটো বিষয়ে সংঘর্ষে জড়ায় দুই দেশের সীমান্তের গ্রামবাসীও।
স্বাধীনতার পর এ পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুটি চুক্তি ও এই চুক্তির আলোকে দুটো প্রটোকল সই করে ঢাকা-দিল্লি।
সমঝোতা অনুযায়ী উভয় দেশের শূন্য লাইনের ১৫০ গজের মধ্যে প্রতিরক্ষা বিষয়ক যে কোনো কাজে সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা আছে। এছাড়া শূন্য লাইন থেকে দেড়শো গজের মধ্যে কোনো উন্নয়নমূলক কাজ করতে হলে, একে অপরের কাছ থেকে সম্মতি নিতে হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রটোকলের ব্যত্যয় করেছে ভারত। দেশের স্বার্থবিরোধী এ সুযোগ তৈরি করে দেয় আওয়ামী লীগ সরকার।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক শামীম কামাল বলেন, ২০১০ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার ৩৭২ কিলোমিটার কাঁটাতারের বেড়া ভারত দিয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার তাদের এ সুবিধা দিয়েছে। এতে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকার স্বার্থ সংরক্ষিত হয়নি। এই স্বার্থটা আওয়ামী লীগ ভারতের হাতে তুলে দিয়েছে।
সীমান্ত সংক্রান্ত সব চুক্তির অসঙ্গতি খুঁজে বের করে তা পূর্ণ মূল্যায়নের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক নাঈম আশফাক বলেন, লালমনিরহাটের দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ছিটমহলে একটি ফ্লাইওভার হওয়ার কথা ছিল। এতে ভারত রাজিও ছিল। পরে আর সেই কাজটি হয়নি। এখন প্রথম কাজ হলো আমরা যে চুক্তি করেছি তা পুনর্মূল্যায়ন করা। এরভেতর যদি কিছু জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে যায় সেই স্বার্থ কীভাবে সমুন্নত রাখা হবে তা নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে।
আগামী মাসে দিল্লিতে বসছে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক। ঢাকা চাইছে, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান।







































