
তথ্যপ্রযুক্তি সম্পন্ন আধুনিক টেরোরিস্টদের নিয়ে ভারতের একটি জনপ্রিয় সিনেমার নাম ‘জিরোজিরো সেভেন’। ওই সিনেমায় জঙ্গিদের কার্যক্রম এবং সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া হয়ে উঠার যে গল্প তা ছিল ভয়ঙ্কর। সেই সিনেমার নামে রাজধানীর উত্তরা, বিমানবন্দরসহ আশপাশের এলাকায় তাদের নেটওয়ার্ক তৈরি করে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করে আসছিল ‘জিরোজিরো সেভেন’। এই গ্যাংয়ের মূল হোতা আল-আমিন (২৪) যুবক হলেও কিশোরদের নিয়ে গড়ে তোলে তার বাহিনী।
বাহিনীর সদস্যদের কাজ মাদক সেবন, সাইলেন্সার বিহীন মোটরসাইকেল চালিয়ে বিকট শব্দ করে জনমনে ভীতির সঞ্চার, স্কুল-কলেজে বুলিং, র্যাগিং, ইভটিজিং, ধর্ষণ, ছিনতাই, ডাকাতি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশ্লীল ভিডিও শেয়ারসহ নানা অনৈতিক কার্যক্রম করা। অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়ে ভাড়ায় তারা বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। দীর্ঘদিন তাদের নজরদারিতে রাখে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যটালিয়ন (র্যাব-১) সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত র্যাব-১ এর একাধিক অভিযানে রাজধানীর বিমানবন্দর, বনানী, মহাখালী, টঙ্গী ও গাজীপুর এলাকা থেকে কিশোর গ্যাং ‘জিরোজিরো সেভেন, ‘ডি কোম্পানি’, ‘বাবা গ্রুপ’, ‘জাউরা গ্রুপ’, ‘ভোল্টেজ গ্রুপ’, ও ‘জাহাঙ্গীর গ্রুপ’সহ বিভিন্ন কিশোর গ্যাং গ্রুপের ৩৭ জনকে গ্রেফতার করে র্যাব-১ এর সদস্যরা।
শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় র্যাব-১ এর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মোসতাক আহমেদ।
তিনি বলেন, নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে বিশৃঙ্খলায় কেউ প্রতিবাদ করলে খুন করতেও দ্বিধাবোধ করে না কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। কিশোর গ্যাং গ্রুপ ‘০০৭ গ্রুপের মূলহোতা আল-আমিন, জাউরা গ্রুপের মূলহোতা মাহাবুব, বাবা গ্রুপের মূলহোতা সাদ, হাই ভোল্টেজ গ্রুপের মনা, ডি কোম্পানির দলনেতা পাপ্পু ওরফে লন্ডন পাপ্পু গ্রুপের অন্যতম দুই সহযোগী আকাশ ও আমির হোসেন, জাহাঙ্গীর গ্রুপের দলনেতা বয়রা জাহাঙ্গীরসহ ৩৭ জন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫০০ গ্রাম গাঁজা, ২৪টি মোবাইল, একটি কুড়াল, একটি পাওয়ার ব্যাংক, পাঁচটি রড, ১৬টি চাকু, তিনটি লোহার চেইন, একটি হাতুড়ি, একটি উচ্চ শব্দ সৃষ্টি করা মোটরসাইকেল, একটি ব্লেড এবং নগদ ২৪ হাজার ২৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-১ অধিনায়ক মোস্তাক আহমেদ বলেন, প্রতিটি গ্রুপে অর্ধশত সদস্য রয়েছে। তারা টাকার বিনিময়ে মারামারি, দখলবাজি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
গ্রেফতারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা র্যাবকে জানায়, গ্রেফতারদের মধ্যে ১৭ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক, অস্ত্র, ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্যরা মদতদাতাদের হয়ে মারামারি করে। অনেকেই এ গ্রুপের সদস্যদের মূলত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে এমন তথ্য আমরা পেয়েছি। তাদের হয়ে কাজ করার কারণে অপরাধ করে শেল্টার পায়। যারা তাদের নানাভাবে মদতদাতা হিসেবে কাজ করছে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে মোসতাক আহমেদ আরও বলেন, গণমাধ্যম ও র্যাব সদরদফতরের নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত নিয়ে কিশোর গ্যাং সম্পর্কে আমরা অনুসন্ধান করছি। আগেও এভাবে অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। র্যাব-১ এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় আগে অনেকের নাম পেয়েছি। তাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এখন কিশোর গ্যাং নিয়ে নির্দেশনা পাওয়ার পরে গত ১৫ থেকে ২০ দিন ধরে কাজ করেছি। এ সময়ে নতুন গ্রুপগুলোকে দলনেতাসহ সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কার্যক্রম, মামলাসহ তাদের বিষয় অনুসন্ধান চলছে। আমাদের অভিযান থেমে নেই। নতুন করে কোনো গ্রুপের তথ্য পেলে গ্রেফতার করা হবে।







































