
জাহাঙ্গীর আলম, গোয়াইনঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি: দীর্ঘ ৩২ বছরের সম্পর্কের টানে সৌদি আরব থেকে সিলেটের গোয়াইনঘাটে ছুটে এসেছেন এক কফিল। অসুস্থ সাবেক কর্মচারী আব্দুস শুকুরের শারীরিক অবস্থার খবর পেয়ে তাকে দেখতে সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে বাংলাদেশে এসেছেন তার কফিল আবাদে আব্দুল লতিফ।বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট ২০২৬) সকাল আনুমানিক ১১টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন আবাদে আব্দুল লতিফ। তার আসার খবর পেয়ে অসুস্থ আব্দুস শুকুর ও তার ছেলে, গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক রাসেল আহমদ, তাকে অভ্যর্থনা জানাতে বিমানবন্দরে ছুটে যান। পরে বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি গোয়াইনঘাট উপজেলার লেংগুড়া ইউনিয়নের সতী গ্রামের উদ্দেশে রওনা হন।সতী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস শুকুর দীর্ঘদিন সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। প্রায় এক বছর আগে তিনি দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পর বর্তমানে তিনি অসুস্থ হয়ে নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।আব্দুস শুকুরের অসুস্থতার খবর সৌদি আরবে থাকা তার সাবেক কফিল আবাদে আব্দুল লতিফের কাছে পৌঁছালে তিনি আর দূরে থাকতে পারেননি। দীর্ঘ ৩২ বছরের সম্পর্কের টানে জেদ্দা থেকে বাংলাদেশে এসে সরাসরি গোয়াইনঘাটের সতী গ্রামে ছুটে যান অসুস্থ শুকুরকে দেখতে।দীর্ঘদিনের কর্মসম্পর্ক যে একসময় পারিবারিক ও আত্মিক বন্ধনে পরিণত হতে পারে—আবাদে আব্দুল লতিফ ও আব্দুস শুকুরের সম্পর্ক যেন তারই এক মানবিক উদাহরণ। কর্মচারীর অসুস্থতার খবর শুনে হাজার মাইল দূর থেকে কফিলের ছুটে আসার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও আবেগ ও ভালোবাসার সৃষ্টি হয়েছে।সাক্ষাৎকালে আবাদে আব্দুল লতিফ অসুস্থ আব্দুস শুকুরের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করেন।তাদের ৩২ বছরের দীর্ঘ সম্পর্ক ও মানবিকতার এই ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসা ও আবেগের সৃষ্টি করেছে। কর্মজীবনের সম্পর্ক পেরিয়ে এই বন্ধন যে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত, তা-ই যেন ফুটে উঠেছে এ ঘটনায়।




























