
আব্দুর রশিদ মোল্লা, শ্রীপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি:
মাগুরার শ্রীপুরে সামাজিক দ্বন্দ্ব ও সংঘর্ষের সুযোগে এক প্রবাসীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রবাসীর বৃদ্ধ বাবা-মা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
১৭ আগস্ট সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের চন্ডিখালী গ্রামের আফ্রিকান প্রবাসী মোঃ রবিউল ইসলামের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এতে বাড়িটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ভুক্তভোগী প্রবাসীর দুলাভাই সাবেক সেনাসদস্য শফিকুল ইসলাম বলেন, "প্রবাসীর ফাঁকা বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা-মা ও তার স্ত্রী থাকেন। তারা কেউই সামাজিক বা রাজনৈতিক কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত না। স্বর্ণ ও নগদ অর্থ লুটপাটের জন্য স্থানীয় একটি গ্রুপ এই হামলা চালিয়েছে। বর্তমানে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এ বিষয়ে আইনী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।"
ভুক্তভোগী রবিউল ইসলামের বৃদ্ধ পিতা মীর কাশেম মল্লিক জানান, "সন্ধ্যার পর কিছু ছেলে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে। ঘরের দামি জিনিসপত্র, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। বাড়িতে শুধু আমি ও আমার স্ত্রী থাকি। আমরা দুজনেই বৃদ্ধ, এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।"
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৪ জুলাই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীর হামলায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৭ জুলাই আমিরুল মোল্যা নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা হওয়ার পর স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ও বিএনপি কর্মী আসাদ মল্লিক ও আখেরুজ্জামান গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
এরই জের ধরে সোমবার সন্ধ্যায় উভয় গ্রুপের সমর্থকেরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় আলম বিশ্বাস (৫৫), সিরাজ মোল্লা (৪০), আমিরুল বিশ্বাস (৫০) ও রাশেদ শেখ (৩৫) সহ ৫জন আহত হন। আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে ১০-১৫টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
হামলা ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনাকে নেক্কারজনক আখ্যা দিয়ে শ্রীপুর থানার ওসি মোঃ ওলি মিয়া বলেন, "খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"




























