
মাসুম বিল্লাহ
রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়ে ফেরার পর বাদী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে মামলার অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গত সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে মৌডুবি ইউনিয়নের ভূঁইয়াকান্দা গ্রামে বাদীর বাড়ির সামনের সড়কে ঘটনাটি ঘটে।
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম জাহাঙ্গীর হাওলাদার (২৭)। তিনি একই গ্রামের আক্কেল আলী হাওলাদারের ছেলে। ঘটনায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিরা হলেন মামলার বাদী, তাঁর স্বামী, শাশুড়ি নিলুফা বেগম, গ্রাম পুলিশ হৃদয় হাসান, আবু সুফিয়ান ও রুবিনা আক্তার।
এঁদের মধ্যে বাদীর স্বামী সোহাগ আকনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, দ্রুত মামলা নিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ঘটনার একটি ভিডিও প্রতিবেদকের কাছে এসেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, জাহাঙ্গীর হাওলাদারসহ তিনজন বাদী ও তাঁর স্বামীকে এলোপাতাড়ি মারছেন। ভিডিওতে লাঠি হাতে আরও দুই নারীকে এই মারধরে যুক্ত হতে দেখা যায়। তারা হলেন- জাহাঙ্গীরের স্ত্রী কেয়া মনি (২৫) ও ভাইয়ের স্ত্রী নাজমা বিবি (৪০)। ঘটনাটি ভিডিও করায় স্থানীয় গ্রাম পুলিশ হৃদয় হাসানকেও মারধর করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।
জানা গেছে, ১৯ জুলাই (শনিবার) চিকিৎসার জন্য ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন বাদীর স্বামী। ওই রাতে জাহাঙ্গীর হাওলাদার তাঁর মোবাইলে ফোন করে স্বামীর অবস্থান জেনে নেন। রাত একটার দিকে জাহাঙ্গীর ঘরের জানালা দিয়ে ঢুকে দুই সন্তানসহ ঘুমিয়ে থাকা বাদীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং ধর্ষণের চেষ্টা চালান। বাদীর চিৎকার করলে আসপাশের লোকজন ছুঁটে আসে এবং ঘরে আলো জ্বালালে তিনি অভিযুক্তকে চিনতে পারেন।
এ ঘটনায় ২৩ জুলাই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে রাঙ্গাবালী থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ। একই দিন পুলিশ জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। বাদীর অভিযোগ, কারাগারে থাকা অবস্থায় জাহাঙ্গীরের ভাইয়েরা মামলা তুলে নিতে চাপ দেন এবং আবারও ধর্ষণের হুমকি দেন। এ বিষয়ে ৩১ জুলাই তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। ধর্ষনচেষ্টা মামলা তুলে না নেওয়ায় সোমবার আদালতে হাজিরা দিয়ে এসে তাঁদেরকে মারধর করা হয়।
মামলার বাদী বলেন, মামলা তুলে নিতে তাঁর ওপর চাপ ছিল। সোমবার আদালত থেকে দুপুর ৩টার দিকে বাড়ি ফিরেছেন। সাড়ে ৪টার দিকে তাঁর স্বামীকে একা পেয়ে মারধর শুরু হয়। চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গেলে তাঁকে ও শাশুড়িকেও মারধর করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বাদীর স্বামী সোহাগ আকন বলেন, মামলার অভিযোগপত্র আদালতে যাওয়ার পর সেদিনই ছিল প্রথম হাজিরার দিন। হাজিরা দিয়ে বাড়ি ফেরার পরপরই তাঁদের মারধর করা হয়।
গ্রাম পুলিশ হৃদয় হাসান বলেন, চিৎকার শুনে বাড়ি থেকে বেরিয়ে তিনি দেখেন সোহাগ ও তাঁর স্ত্রীকে মারা হচ্ছে। ভিডিও করায় তাঁকেও লাঠি দিয়ে পেটানো হয়।
অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর হাওলাদার বলেন, অভিযোগপত্র আদালতে জমা হওয়ার পরে প্রথম হাজিরা ছিল। সেখানে গিয়ে দেখি বাদীপক্ষ এসেছে। আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বাদীর স্বামী সোহাগের ছবি তুলেছি। এটি নিয়ে গ্রাম পুলিশ হৃদয়ের সাথে বাকবিতণ্ডা হয়। এরপরেই বাড়িতে আসলে মারামারি ঘটনা ঘটে।
রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আগে বিভিন্ন ধারায় পাঁচটি মামলা রয়েছে।





























