
ইয়ার রহমান আনানঃ কক্সবাজার ব্যুরো
কক্সবাজারের চকরিয়ায় চাঞ্চল্যকর ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ ইসফাতুল ইসলাম জিসান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আনোয়ার হোসেন প্রকাশ কালু ড্রাইভারের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার খবর প্রকাশের পর তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তার পরিবার। পরিবারের দাবি, কালু ড্রাইভার কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন; পারিবারিক বিরোধের জেরে তাকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
জিসান হত্যার সুষ্ঠু বিচার এবং কালু ড্রাইভারের মুক্তির দাবিতে শুক্রবার বিকেলে কাকারা ইউনিয়নের লোটনী এলাকায় কালু ড্রাইভারের বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে তার পরিবার। এতে লিখিত বক্তব্য দেন কালুর ছেলে মোহাম্মদ ইমন উদ্দিন। বক্তব্য দেন কালুর স্ত্রী শওকত ইয়াসমিন, ভাই কৃষক দলের সভাপতি জামাল উদ্দিন, ভাগিনা তৌহিদুল ইসলাম শামীম। এছাড়া নিহত জিসানের খালু বাদশাহ মিয়া ও খালাতো ভাই জালাল উদ্দিনও বক্তব্য দেন।
লিখিত বক্তব্যে ইমন উদ্দিন অভিযোগ করেন, কাকারা ইউনিয়নের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী পারিবারিক আক্রোশ থেকে তার বাবাকে এ মামলায় জড়িয়েছেন। তার দাবি, ওই ব্যক্তির উপস্থিতিতে পুলিশ তার বাবাকে বাড়ি থেকে আটক করে নিয়ে যায়।
ইমন আরও অভিযোগ করেন, কালু ড্রাইভারকে কয়েক দিন থানায় আটকে রেখে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। পরিবারের কাছে আটকের কারণ বা তার বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণও জানানো হয়নি। পরে তাকে আদালতে পাঠিয়ে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, চাপ প্রয়োগ করে ওই জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে।
ইমন উদ্দিন বলেন, ‘আমরা কোনো প্রতিশোধ চাই না। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে আমার বাবাকে মুক্তি দেওয়া হোক। একই সঙ্গে আমাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
অন্যদিকে জিসান হত্যা মামলার বাদী ও নিহতের বড় ভাই কায়সার হামিদ বলেন, হত্যাকাণ্ডের পাঁচ দিন পার হলেও এজাহারভুক্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। অন্যদিকে কালু ড্রাইভার নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। ‘তার বিরুদ্ধে আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। তবে কী কারণে পুলিশ তাকে আটক করেছে, তা আমি বলতে পারব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের কোনো ক্লু উদঘাটন হয়নি।’ এ কারণে তিনি তদন্ত সংস্থা পরিবর্তনের দাবি জানান।
জানা গেছে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর ভোরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের খুটাখালী কচ্ছপিয়া ঢালা এলাকা থেকে ছাত্রদল নেতা জিসানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে তাকে অপহরণ করা হয়েছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় চকরিয়া থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে।
চকরিয়া থানার পুলিশ জানিয়েছে, জিসান হত্যা মামলায় আনোয়ার হোসেন প্রকাশ কালু ড্রাইভারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে পাঠানোর পর ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে জবানবন্দি গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।



























