
মোহাম্মদ আবুল হাশেম
বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের দরিদ্র শিশুদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণের সরকারি অর্থ তছরুপ এর অভিযোগ উঠেছে। নামমাত্র কিছু শিশুকে সামান্য কিছু স্কুল ব্যাগ, জ্যামিতি বক্স, খাতা ও কলম দিয়ে উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা লুটপাট করার অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা। এই ইউনিয়নে উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের আরো কিছু প্রকল্প গত ৩০শে জুন কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রকল্প গুলো এখনো বাস্তবায়ন না করায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে।
লামা উপজেলা পরিষদের গত ১৭ জুন ২০২৬ তারিখের রেজুলেশন মতে উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের ২য় কিস্তির বরাদ্দের অনুকূলে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের মোট সাতটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। উক্ত কর্মসূচীর আওতায় ‘ইউনিয়নের প্রথম শ্রেণীর দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ড্রেস, ব্যাগ, মোজা ও জুতা বিতরণে’ ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। ৩নং ওয়ার্ড ইউপি মেম্বার মোহাম্মদ হোসেন মামুন বলেন, আমার ওয়ার্ডে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উন্নয়ন সহায়তা তহবিল থেকে ৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। ইউপি সচিব মোঃ রুহুল আমিন খন্দকার বলেন, ইতিমধ্যে ইউনিয়নের মোট ৯টি স্কুলে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেছি।
নাম প্রকাশ না করা সত্ত্বে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, আমার স্কুলে ১৫ জন শিশুকে শিক্ষা সামগ্রী দেয়া হয়েছে। একজন শিশুকে ১টি করে স্কুল ব্যাগ, ১টি জ্যামিতি বক্স, ৩টি খাতা ও ৩টি পাঁচ টাকা দামের কলম দেয়া হয়। এভাবে ১৫ জন শিশু হিসাবে ৯টি স্কুলে মোট ১৩৫ জন শিশুকে শিক্ষা সামগ্রী দেয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে নামমাত্র কিছু শিক্ষা সামগ্রী দিয়ে উন্নয়ন সহায়তা তহবিল ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা লুটপাট করা হয়েছে।
সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ৩০শে জুন ২০২৬ প্রকল্প গুলো বাস্তবায়নের মেয়াদ শেষ হলেও এখনো অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি। ৭নং ওয়ার্ডের কাঁঠালছড়া নুরুচ্ছফা সর্দার পাড়ায় রাস্তা এইচবিবিকরণ প্রকল্প এখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি। একই চিত্র পুরো উপজেলায় দেখা মিলেছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মঈন উদ্দিন বলেন, ‘বিভিন্ন ব্যস্ততার কারণে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের শিক্ষা উপকরণ বিতরণের প্রকল্প এখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি। ১৭ জুন ২০২৬ তারিখে আমরা সভা করেছি। শীঘ্রই বিতরণ করা হবে।




























