
মোঃ ফখর উদ্দিন, স্টাফ রিপোর্টার:
নোয়াখালীর সেনবাগ-বজরা সড়কের উন্নয়নকাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর নির্মাণকাজ সাময়িক বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। একই সঙ্গে ঠিকাদারকে তলব করে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইরফানুল হক চৌধুরী ও নোয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আহম্মদ উল্লাহর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল সড়কটির নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন। এ সময় নিম্নমানের কাজের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে সেনবাগ-বজরা সড়কের প্রায় ১৬ কিলোমিটার অংশের উন্নয়নকাজের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়। প্রকল্পটির জন্য প্রায় ৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। মেসার্স ছালে আহম্মদ ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়।
দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকার পর গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু হয়। কাজ শুরুর পর স্থানীয়রা নির্মাণসামগ্রী ও কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাদের অভিযোগ, সড়কের সোল্ডার, এজিং ও গাইড ওয়ালের কাজ যথাযথভাবে করা হচ্ছে না। কালভার্টের সঙ্গে সড়কের সংযোগেও ত্রুটি রয়েছে। কার্পেটিংয়ে নির্ধারিত পরিমাণের তুলনায় কম উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগও করেন তারা। এমনকি কার্পেটিংয়ের পিচের স্তর হাত দিয়ে তুলে ফেলার অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
পরে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ গাজী খোকন ও ফারাবি চৌধুরীর নেতৃত্বে এলাকাবাসী নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এলে বুধবার কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরফানুল হক চৌধুরী বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় কাজ সাময়িক বন্ধ করা হয়েছে। ঠিকাদারকে নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। নিম্নমানের কাজ করা অংশ নতুন করে করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নোয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আহম্মদ উল্লাহ বলেন, তদন্তকালে অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। খারাপ অংশ পুনরায় করে দেওয়ার জন্য ঠিকাদারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ দিতে দেরি হওয়ায় প্রকল্পের কাজ শেষ করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের নকশা ও নির্ধারিত সিডিউল অনুযায়ী নির্মাণকাজের মান নিশ্চিত করে পুনরায় কাজ শুরু করা হোক। পাশাপাশি অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।




























