
আরাফাত আলী,স্টাফ রিপোর্টার: সাতক্ষীরার তালায় মাছ চুরির সন্দেহে ক্ষিতিশ মন্ডল (৫২) নামে এক মাছের ঘের ব্যবসায়ীকে রাতভর গাছে বেঁধে কুপিয়ে ও পিটিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনদের দাবি, চুরির অভিযোগের নামে তাঁকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। তাঁরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
নিহত ক্ষিতিশ মন্ডল তালা সদর ইউনিয়নের জেয়ালা গ্রামের মৃত মনিন্দ্র নাথ মন্ডলের ছেলে। তিনি নিজেও মাছের ঘের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে তালার জেয়ালা উত্তর খোলা বিলে বিশ্বনাথ ঘোষের মাছের ঘেরে চুরির সন্দেহে ক্ষিতিশ মন্ডলকে আটক করা হয়। এরপর তাঁকে জেয়ালা শ্মশানঘাট এলাকায় নিয়ে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিশ্বনাথ ঘোষ, শিমুল ঘোষ, সমর ঘোষ, ইব্রাহিম খাঁ, হাবিবুর গাজী, গফফার শেখসহ ১০ থেকে ১৫ জন জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনেরা।
অভিযোগ অনুযায়ী, রাতভর তাঁর ওপর চালানো হয় পৈশাচিক নির্যাতন। লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তাঁর হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়। মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর পাশাপাশি চোখ উপড়ে ফেলারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ভোর পর্যন্ত তাঁকে গাছে বেঁধে রেখে নির্যাতন চালানো হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
পরে শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর আহত ক্ষিতিশ মন্ডলকে উদ্ধার করে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা ১২টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের চাচাতো ভাই পার্থ মন্ডল এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার চাচাতো ভাই ক্ষিতিশ মন্ডলের নিজেরই চার বিঘা জমিতে মাছের ঘের রয়েছে। চুরির সন্দেহ হলেই কি একজন মানুষকে রাতভর গাছে বেঁধে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মেরে ফেলতে হবে? অপরাধের অভিযোগ থাকলে আইন ও প্রশাসন রয়েছে। এভাবে কাউকে নির্যাতন করে হত্যা করার অধিকার কারও নেই। আমরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিন আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মাছ চুরির অপবাদে মারধরের শিকার হয়ে ক্ষিতিশ মন্ডলের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সম্পন্ন করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে মাছ চুরির সন্দেহের মতো একটি অভিযোগের নিষ্পত্তি কি আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এভাবে একজন মানুষকে নির্যাতন করে হত্যার মাধ্যমে হতে পারে? অভিযোগের সত্যতা নিরূপণ, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনেরা।




























