
স্ত্রীকে নিয়ে কটিয়াদীতে ভিক্ষা করে চলছে জীবন মোঃ আল আমিন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি একসময় গ্রামের মাঠে কৃষিকাজ করেই সংসার চালাতেন নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার দলপা গ্রামের বাসিন্দা মোঃ শামীম হোসেন (৩৫)। তিনি মোঃ দুলাল মিয়া ও মোছাঃ আয়েশা আক্তারের ছেলে। সংসারে রয়েছে স্ত্রী ও একটি সন্তান। কিন্তু একটি সড়ক দুর্ঘটনা তার জীবনকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। বর্তমানে একটি পা ও একটি হাত প্রায় অচল। অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে না পেরে স্ত্রীকে নিয়ে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি।সম্প্রতি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি চায়ের দোকানে শামীম হোসেনের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। সেখানে তিনি নিজের জীবনের সংগ্রামের নানা দিক তুলে ধরেন।শামীম জানান, গ্রামের বাড়িতে কৃষিকাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করতেন। তবে করোনা মহামারির সময় পরিবারের আর্থিক সংকট কাটাতে কাজের সন্ধানে ঢাকায় যান। সেখানে একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর অনেকেই তার বেঁচে থাকার আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। পরে স্থানীয় কিছু মানুষের সহযোগিতায় চিকিৎসা নিয়ে তিনি কোনো রকম প্রাণে বেঁচে ফিরলেও আজও পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি।তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর থেকে তার একটি পা ও একটি হাত প্রায় অচল হয়ে গেছে। চলাফেরার জন্য ক্র্যাচ ব্যবহার করতে হয়। এক পায়ের ওপর ভর করে কষ্ট করে হাঁটতে হয়। সামান্য দূরত্ব চললেই প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন। শারীরিক অবস্থার কারণে কৃষিকাজসহ কোনো ধরনের শ্রমনির্ভর কাজই এখন আর করতে পারেন না।শামীম বলেন, গ্রামের বাড়িতে একটি ছোট্ট ঘর ছাড়া তাদের উল্লেখযোগ্য কোনো সম্পদ নেই। সংসারের দায়িত্ব থাকলেও অর্থাভাবে এখনো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সম্পন্ন করতে পারেননি। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আরও চিকিৎসা প্রয়োজন হলেও সেই সামর্থ্য তার নেই।তিনি আরও জানান, প্রতিবন্ধী পরিচয়পত্র (প্রতিবন্ধী কার্ড) পাওয়ার আশায় নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে একাধিকবার গিয়েছেন। তবে অশিক্ষিত হওয়াসহ বিভিন্ন জটিলতার কারণে এখনো কার্ড পাননি বলে দাবি করেন। একটি প্রতিবন্ধী কার্ড পেলে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসা ও পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকা কিছুটা সহজ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।বর্তমানে স্ত্রীকে নিয়ে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে অবস্থান করছেন শামীম। প্রতিদিন ভিক্ষা করে যা পান, তা দিয়েই কোনোমতে সংসার চালানোর চেষ্টা করেন। তবে শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে নিয়মিত ভিক্ষাও করতে পারেন না। অনেক সময় সারাদিন ঘুরেও পর্যাপ্ত অর্থ জোটে না বলে জানান তিনি।শামীম হোসেন বলেন, “আমি কারও কাছে হাত পেতে চলতে চাই না। আগে নিজের পরিশ্রমে কৃষিকাজ করে সংসার চালাতাম। দুর্ঘটনার পর সবকিছু বদলে গেছে। চিকিৎসা আর একটি প্রতিবন্ধী কার্ড পেলে হয়তো পরিবার নিয়ে একটু স্বাভাবিকভাবে বাঁচতে পারতাম।”এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিধি অনুযায়ী, প্রতিবন্ধী পরিচয়পত্র প্রদানের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।স্থানীয়দের মতে, প্রকৃত অসহায় ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দ্রুত সরকারি সহায়তার আওতায় এনে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা জরুরি। তারা শামীম হোসেনের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান মানুষের সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন।দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনে দুর্ঘটনা, চিকিৎসা, শারীরিক অবস্থা এবং প্রতিবন্ধী কার্ড-সংক্রান্ত তথ্য শামীম হোসেনের নিজস্ব বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও সিদ্ধান্ত সাপেক্ষে বিষয়গুলোর আনুষ্ঠানিক নিষ্পত্তি হবে।




























