
মো.কাওছার আহম্মেদ, গাইবান্ধা ঃ গাইবান্ধায় একটি হত্যা চেষ্টা ও নারী নির্যাতনের মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীকে আদালতে সাক্ষ্যদান থেকে বিরত রাখতে প্রাণনাশের হুমকি, হাত-পা ভেঙে দেওয়ার ভয় দেখানো এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে গাইবান্ধা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার আবেদন করেছেন মামলার ১ নম্বর এজাহারভুক্ত সাক্ষী নুর মোহাম্মদ। জিডির আবেদনে নুর মোহাম্মদ উল্লেখ করেন, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ভিএইডি রোড কালিবাড়ীপাড়া এলাকার বাসিন্দা সফুরা আক্তার সুরভী তার স্বামী হাসানুজ্জামান হাসুর ওপর সংঘটিত সশস্ত্র হামলা, হত্যা চেষ্টা, গুরুতর জখম, শ্লীলতাহানি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে গাইবান্ধা সদর থানায় মামলা করেন। ওই ঘটনায় তিনি প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে পুলিশের কাছে সাক্ষ্য দেন এবং মামলার ১ নম্বর সাক্ষী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। আবেদনে বলা হয়েছে, মামলার প্রধান আসামিদের মধ্যে শ্যামলী বেগমসহ কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন। পরে তারা জামিনে মুক্তি পান। জামিনে বের হওয়ার পর থেকেই মামলার সাক্ষীদের আদালতে সাক্ষ্য দিতে বাধা দিতে ধারাবাহিকভাবে ভয়ভীতি ও চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। জিডির আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২৫ জুন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শুভ মিয়া, সোহাগী বেগম, শ্যামলী বেগম ও চাঁন মিয়া ওরফে ভুট্টু নুর মোহাম্মদের বাড়ির সামনে এসে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। তিনি প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা আদালতে সাক্ষ্য দিতে গেলে তার হাত-পা ভেঙে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেন। পাশাপাশি মামলার বাদী ও অন্যান্য সাক্ষীদের মারধর এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয় বলে আবেদনে দাবি করা হয়েছে। আবেদনকারী বলেন, এসব হুমকির কারণে তিনি, তার পরিবার এবং মামলার অন্যান্য সাক্ষীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে এমন আশঙ্কায় ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি থানায় জিডির আবেদন করেছেন। জিডিতে স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর নামও উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের সামনেই অভিযুক্তরা হুমকি দিয়েছেন বলে আবেদনকারীর দাবি। উল্লেখ্য, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়, হাসানুজ্জামান হাসুর ওপর ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠি দিয়ে হামলা চালিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। একই ঘটনায় তার স্ত্রী সফুরা আক্তার সুরভী শ্লীলতাহানির শিকার হন বলেও মামলায় উল্লেখ রয়েছে। ওই মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হওয়ায় নুর মোহাম্মদকে সাক্ষ্যদান থেকে বিরত রাখতে পরিকল্পিতভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে বলে জিডির আবেদনে দাবি করা হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, কোনো মামলার সাক্ষীরা যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন এবং আদালতে সাক্ষ্য দিতে বাধাগ্রস্ত হন, তাহলে ন্যায়বিচার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্যে বলেন, মামলা হয়েছে আমাদের নিজেদের মধ্যে সাক্ষী আমাদের কেউ না তারা কেন সাক্ষী দিতে যাবে । এই সাক্ষীর জন্য আমাদের নামে মামলাটি হয়েছে আমরা গোপন সূত্রে জানতে পেরেছি। গাইবান্ধা সদর থানার পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।



























