
শফিকুল স্টাফ রিপোর্টারঃ গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত প্রায় ১,২০০ বছরের প্রাচীন ঐতিহাসিক নিদর্শন ‘আদিত্যপালের দিঘি’ (যা পরবর্তীতে 'ওয়েদাদিঘি' বা 'ওয়াদ্দার দিঘি' নামে পরিচিতি পায়) ভরাট করে বাড়ি নির্মাণের চেষ্টা ছড়াচ্ছে তীব্র ক্ষোভ। ৩২ বিঘা বিশাল জায়গার ওপর অবস্থিত এই প্রত্নতাত্ত্বিক ও পরিবেশগত ঐতিহ্যটি রক্ষায় স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা শ্রীপুর উপজেলা প্রশাসনের জরুরি ও আইনগত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত কিছুদিন যাবৎ স্থানীয় মো. শাজাহান মিয়া নামের এক ব্যক্তি দিঘিটির একটি অংশ ভরাট করে স্থায়ী ঘরবাড়ি নির্মাণের কাজ চালাচ্ছেন। প্রাচীন এই জলাশয়টি ভরাট করার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শাজাহান মিয়া দাবি করেন, সরকার থেকে তাদের গুচ্ছগ্রামের জন্য এই জমির বৈধ দলিল করে দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ঐতিহাসিক এই জলাশয় এবং খাস জমি কোনোভাবেই ব্যক্তিগত বাড়ি নির্মাণের জন্য বরাদ্দ হতে পারে না। ভুয়া কাগজের অজুহাতে এই অমূল্য ঐতিহাসিক সম্পদ ধ্বংস করার পাঁয়তারা চলছে।পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী যেকোনো প্রাকৃতিক জলাশয় ভরাট করা সম্পূর্ণ দণ্ডনীয় অপরাধ। তার ওপর ১,২০০ বছরের পুরোনো আদিত্যপালের দিঘিটি এই অঞ্চলের প্রাচীন ইতিহাসের এক অনন্য সাক্ষী। এটি ভরাট হয়ে গেলে যেমন শ্রীপুরের ঐতিহ্য হারিয়ে যাবে, তেমনই স্থানীয় পরিবেশ ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তরে মারাত্মক বিপর্যয় নেমে আসবে।এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্থানীয়রা জানান, সরকারি দলিলের নামে কোনো জালিয়াতি বা অপচেষ্টা চলছে কি না, তা তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সাথে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দিঘি ভরাট কাজ বন্ধের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোবাইল কোর্ট বা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।





























