
। মোতালেব হোসেন(কুমিল্লা প্রতিনিধি)।। কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার পয়ালগাছা ইউনিয়নের পেড্ডা গ্রামে ড্রেজার মেশিন দিয়ে কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়ে আশপাশের কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকেরা।এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে ভুক্তভোগী কৃষক ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ কৃষিজমি রক্ষা ও মাটি কাটা বন্ধে কৃষকদের গণস্বাক্ষরসহ কৃষিমন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।স্থানীয় কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, পয়ালগাছা ইউনিয়নের পেড্ডা গ্রামের মৃত সামছুল হকের ছেলে তাজুল ইসলাম এবং একই গ্রামের মৃত মনির উদ্দিনের ছেলে সাবেক ইউপি সদস্য খলিলুর রহমানসহ একটি চক্র ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে অনুমতি ছাড়াই কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এতে জমির উর্বর মাটি অপসারণ হওয়ায় ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।স্থানীয় কৃষকেরা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে এসব জমিতে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। কিন্তু ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটার কারণে ফসলি জমির মধ্যে গভীর গর্ত তৈরি হচ্ছে। এতে পাশের জমির মাটি ধসে পড়া, জমির স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নষ্ট হওয়া এবং কৃষিজমি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে প্রথমে গত ২ আগস্ট বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। পরে গত ১২ আগস্ট কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কাছে আরও একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন তারা।অভিযোগের পর গত ১৭ আগস্ট সোমবার বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রনি ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থলে অভিযান চালান। এ সময় ড্রেজার মেশিন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।এ সময় সাবেক ইউপি সদস্য খলিলুর রহমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানান, তারা আপাতত ড্রেজার মেশিন বন্ধ রাখবেন এবং জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে পরবর্তীতে মাটি কাটবেন।এদিকে অভিযানের পরদিন থেকেই মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতরা তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন বলে জানান কৃষকরা। বর্তমানে ফসলি জমির মধ্যে তিনটি ড্রেজার মেশিন রয়েছে। যেকোনো সময় সেগুলো আবার চালু করে মাটি কাটা শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।ভুক্তভোগী কৃষকেরা বলেন, ‘‘আমরা ফসলি জমি রক্ষা এবং মাটি কাটা বন্ধের দাবিতে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে কৃষিমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করেছি। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আমাদের ফসলি জমি ধ্বংস হয়ে যাবে।তারা প্রশাসনের কাছে অভিযোগের বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত করে কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটা বন্ধ, জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কৃষিজমি রক্ষায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে কোনো চক্র কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটতে না পারে, সে বিষয়ে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তারা।এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার মুঠোফোনে বলেন, ‘‘আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ইতোমধ্যে কয়েকবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আপাতত ড্রেজার মেশিন বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখব।’’




























