
আব্দুল্লাহ্ আলা মামুন, বোদা(পঞ্চগড়) প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের বোদা পৌরসভা ৯ নম্বর ওয়ার্ডে অন্তভূক্ত সাতখামার ইসলামীয়া ফাজিল মাদ্রাসার মালিকানাধীন ঝলঝলি এলাকার একটি পুকুর নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের কিছু তথ্যের প্রতিবাদ জানিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে পুকুরটি নিয়ে আদালতের দেওয়া Status Quo (স্থিতাবস্থা) আদেশের ব্যাখ্যাও তুলে ধরেছে তারা।মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. রেজাউল করিম জানান, ২০২৩ সালে তিনি দায়িত্ব নেওয়ার সময় থেকেই পুকুরটি নিয়ে মামলা চলমান ছিল। বর্তমানে পুকুরটির বিষয়ে মাদ্রাসার পক্ষে হাইকোর্টের অ্যাপিলেট ডিভিশনের Status Quo সংক্রান্ত একটি আদেশ রয়েছে।আদালতের আদেশের আইনি ব্যাখ্যা দিয়ে ব্যারিস্টার মাহমুদ আল মামুন হিমু বলেন, “Status Quo বা স্থিতাবস্থা বলতে বোঝায়, যে অবস্থায় কোনো সম্পত্তি বা জায়গা ছিল, সেই অবস্থাই বজায় থাকবে। পুকুরটি শুরু থেকেই মাদ্রাসার দখলে থাকলে আদালতের আদেশ অনুযায়ী সেই দখল পরিবর্তন করা যাবে না।”মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, পুকুরটি তাদের দখলে থাকায় বর্তমান মাছ চাষের মৌসুমে সেখানে মাছ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আদালতের নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই মাদ্রাসার পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এদিকে, সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মাছ চাষের জন্য ২ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ করা হলেও সেটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন মো. রেজাউল করিম। তিনি বলেন, “কোনো মাছ চাষির কাছ থেকে আমি কোনো টাকা নিইনি।”ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আরও জানান, বর্তমান মাছ চাষের মৌসুম বিবেচনায় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেই মাদ্রাসার পক্ষ থেকে পুকুরে মাছ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে মাদ্রাসার গভর্নিং বডি (পরিচালনা পর্ষদ) অনুমোদিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরবর্তীতে ওই গভর্নিং বডিই সিদ্ধান্ত নেবে—মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ নিজেরা পুকুরে মাছ চাষ করবে, নাকি নিয়ম অনুযায়ী পুকুরটি ইজারা দেওয়া হবে।মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুকুরটি নিয়ে চলমান বিরোধের ক্ষেত্রে তারা আদালতের আদেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে তারা।




























