
"আগে সন্ধ্যা নামলেই ভয় লাগত। এখন অন্তত মনে হয়, প্রশাসন আছে।"—রূপগঞ্জের গজারিয়াপাড়া এলাকার সত্তরোর্ধ্ব রহিমা বেগমের কণ্ঠে স্বস্তির এই অনুভূতি যেন উপজেলার অনেক মানুষেরই অভিন্ন ভাষ্য। স্থানীয়দের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে মাদক, ভূমিদস্যুতা ও নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযানের কারণে রূপগঞ্জে বদলের আভাস মিলছে। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে উঠে এসেছে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন উদ্যোগ।
উপজেলা প্রশাসন বলছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম মাদক কারবার, ভূমি দখল এবং ভেজালবিরোধী অভিযানকে অগ্রাধিকার দেন। নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পাশাপাশি বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের ভাষ্য, অপরাধ দমনে 'শূন্য সহনশীলতা' নীতিতে কাজ করা হচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা আশিকুর রহমান জানান, গত দুই মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৪৫ জন মাদক কারবারি ও মাদকসেবীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি, এসব উদ্যোগের ফলে অনেক এলাকায় প্রকাশ্য মাদক বেচাকেনা কমেছে।
শুধু আইন প্রয়োগ নয়, প্রশাসনের মানবিক উদ্যোগের কথাও তুলে ধরছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অন্ধ জুয়েল মিয়া ও রাহেলা খাতুনসহ সেবা নিতে আসা কয়েকজন জানান, অসহায়, অসুস্থ ও দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা, খাদ্যসহায়তা এবং জরুরি আর্থিক সহায়তায় ইউএনও ব্যক্তিগত ও সরকারি উদ্যোগে সহযোগিতা করছেন। এতে প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা বেড়েছে বলে তাঁদের মত।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় প্রশাসনিক সেবা পেতে নানা ভোগান্তি ও দালালনির্ভরতার অভিযোগ থাকলেও এখন অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি সেবা পাওয়া সহজ হয়েছে। উপজেলা পরিষদে সেবার পরিবেশেও পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি করেন সেবা নিতে আসা কয়েকজন।
তবে প্রশাসনের এসব কার্যক্রমের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কতটা স্থায়ী হবে, তা সময়ই বলে দেবে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, আইন প্রয়োগের ধারাবাহিকতা, জনসচেতনতা এবং স্বচ্ছ প্রশাসনিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে রূপগঞ্জে ইতিবাচক পরিবর্তন আরও দৃশ্যমান হতে পারে।



























