
ইসমাইল হোসেন, পোরশা
নওগাঁ জেলার পোরশা উপজেলার নোচনাহার বাজারে এখন আম মৌসুমের ব্যস্ততম সময় পার হচ্ছে। বাজারজুড়ে আম্রপালি, ল্যাংড়া, ব্যানানা ম্যাংগোসহ বিভিন্ন জাতের আমের ব্যাপক কেনাবেচা চলছে। প্রতিদিন শত শত মণ আম দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি করা হচ্ছে।
আজ সোমবার দুপুরে নোচনাহার বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে বাজারে ৪২ থেকে ৫২ কেজি ওজনের প্রতি মণ আম জাত ও মানভেদে ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতা ও পরিবহন শ্রমিকদের ব্যস্ততা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
আমচাষি কুড়ি পুকুর গ্রামের মিলন বাবু,সাফিয়া পুকুর গ্রামের আনোয়ার হোসেন ও ডালমনি পাড়ার আল আমিন জানান, এ বছর আমের ফলন ও গুণগত মান ভালো হওয়ায় বাজারে চাহিদাও বেড়েছে। তবে বাজারে আম বিক্রির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ‘ধলতা’ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, প্রতি ৪০ কেজি এক মণ আমের বিপরীতে প্রায় ১২ কেজি পর্যন্ত অতিরিক্ত আম ‘ধলতা’ হিসেবে নেওয়া হচ্ছে। এতে প্রকৃত মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। অনেক চাষির দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত এই পদ্ধতির কারণে তাদের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।
আমচাষি হোসেন আহমদ বলেন, "আমের দাম মোটামুটি ভালো থাকলেও অতিরিক্ত ভলটা দেওয়ার কারণে আমরা প্রত্যাশিত লাভ পাচ্ছি না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা প্রয়োজন।"
অন্যদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ী রইচ উদ্দিন, জিয়াউর রহমান, আক্কাস আলি ও রবিউল ইসলাম মেম্বার জানান, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা নোচনাহার বাজারে এসে আম সংগ্রহ করছেন। পাশাপাশি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোও এখান থেকে আম কিনে বিদেশে পাঠাচ্ছে।
ব্যবসায়ী আব্দুল হক বলেন, "নওগাঁর আমের সুনাম দেশজুড়ে রয়েছে। বর্তমানে ইউরোপ, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে আম রপ্তানি হচ্ছে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি সচল রয়েছে এবং কৃষকরাও উপকৃত হচ্ছেন।"
সংশ্লিষ্টদের মতে, আমের বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে কৃষক ও ব্যবসায়ী উভয় পক্ষই আরও বেশি লাভবান হবেন। একই সঙ্গে রপ্তানি কার্যক্রম সম্প্রসারিত হলে নওগাঁর আম দেশের অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।




























