
।মোঃ আশিকুর সরকার (রাব্বি) রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার খিতাবখাঁ গ্রামে বিলুপ্ত প্রাসাদের স্মৃতি আঁকড়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো ঘড়িয়ালডাঙ্গা রাজমন্দির। অযত্ন আর অবহেলায় ভগ্নদশা হলেও এটি এই অঞ্চলের সমৃদ্ধ ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী।তবে ঘড়িয়ালডাঙ্গা জমিদারির ইতিহাস নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তিও রয়েছে। কিছু বর্ণনায় জমিদার হিসেবে শরৎচন্দ্র চৌধুরীর নাম পাওয়া যায়, আবার স্থানীয় সূত্রে ঈশানচন্দ্র রায় চৌধুরী এবং তাঁর দুই পুত্র শরৎচন্দ্র রায় ও যোগেশচন্দ্র রায়ের উল্লেখ রয়েছে। ফলে পরিবারের সঠিক ইতিহাস জানতে আরও অনুসন্ধানের প্রয়োজন।প্রায় দুই শতাব্দী আগে ইট-সুরকি দিয়ে নির্মিত এই বিশালাকার মন্দিরটি ছিল প্রায় ১০০ ফুট গোলাকার ও ৫০ ফুট উঁচু, যাতে ছিল আটটি প্রবেশদ্বার। একসময় দুর্গাপূজা, কালীপূজা ও রথযাত্রাসহ বছরজুড়ে নানা ধর্মীয় উৎসবে মুখরিত থাকত এই প্রাঙ্গণ। ১৯৫০ সালে জমিদার প্রথা বিলুপ্তির পরও কিছুদিন এখানে পূজা-অর্চনা চলত।১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পূর্বেই জমিদার পরিবারের উত্তরসূরিরা ভারতে পাড়ি জমান। পরিচর্যার অভাবে প্রাসাদটি একসময় ধূলিসাৎ হয়ে যায় এবং থমকে যায় মন্দিরের সব উৎসব। এ বিষয়ে স্থানীয় কিছু লোকজন জানান সম্প্রতি জমিদার পরিবারের কোনো এক বংশধর নীরবে ভিটেমাটি ঘুরে গেছেন বলে গুঞ্জন থাকলেও তার সত্যতা মেলেনি। আজ প্রাসাদের অস্তিত্ব না থাকলেও ভগ্ন রাজমন্দিরটি অতীতের প্রশ্ন তুলে ধরে—কোথায় হারিয়ে গেলেন এই জমিদারবাড়ির উত্তরসূরিরা? এই নিয়ে স্থানীয়দের ও দর্শনার্থীদের মধ্যে প্রতিনিয়তই চলছে নানা জল্পনা কল্পনা। তাঁদের কোনো স্মৃতি বা তথ্য উন্মোচিত হলে হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে এই মাটির গভীরে প্রোথিত আসল শেকড়।



























