
মাসুম বিল্লাহ রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিপটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের উত্তর কাউখালী এলাকায় সরকারি খাস খাল দখল করে মাছের ঘের নির্মাণের অভিযোগে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও এখনো খালটি দখলমুক্ত হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। বরং সংবাদে বক্তব্য দেওয়ায় ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি তাদের।স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষ মাছ ধরা, পানি নিষ্কাশন ও কৃষি কাজে সরকারি খাস খালটি ব্যবহার করে আসছেন। কয়েক মাস আগে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি মানিক মোল্লা খালের ওপর বাঁধ নির্মাণ করে মাছের ঘের তৈরি করেন। এতে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ক্ষতির মুখে পড়েছেন খালনির্ভর জেলে ও কৃষকরাও।এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তবে স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তির দখলে থাকা মূল খালটি এখনো দখলমুক্ত করা হয়নি। উল্টো অন্য একটি বাঁধ অপসারণ করে প্রশাসনের কার্যক্রম দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।এলাকাবাসীর অভিযোগ, খাল দখলের বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর অভিযুক্ত ব্যক্তি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। যারা সাংবাদিকদের কাছে বক্তব্য দিয়েছেন, তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কেন গণমাধ্যমের সামনে কথা বলা হয়েছে, সে বিষয়ে তাদের জবাবদিহি করতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রকাশ্যে দাবি করছেন যে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ মোকাবিলায় তার বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে। এসব বক্তব্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন। ফলে অনেকেই এখন প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না।তবে স্থানীয়দের ঘুষ বা আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত অভিযোগের স্বপক্ষে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।অভিযোগের বিষয়েঅভিযুক্ত মানিক মোল্লার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিরুপম মজুমদার বলেন, “সরেজমিন তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভুক্তভোগীদের হুমকির অভিযোগও তদন্ত করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, “বিষয়টি আপনার মাধ্যমে অবগত হয়েছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” এদিকে সংবাদ প্রকাশের পরও সরকারি খাস খাল দখলমুক্ত না হওয়া এবং ভুক্তভোগীদের হুমকির অভিযোগে এলাকায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খালটি দখলমুক্ত করা ও হুমকির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।




























