
জামালগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি :
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে হাওরপাড়ের মানুষের বাজেট ভাবনা শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) জামালগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সভার আয়োজন করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সুনামগঞ্জ জেলা কমিটি ও জামালগঞ্জ উপজেলা কমিটি।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত তেকে কামরুজ্জামান কামরুল প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন সরকারের পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রী মহান জাতীয় সংসদে জনবান্ধব বাজেট উপস্থাপন করেছেন। এবারের বাজেটে কৃষি খাতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হাওর উন্নয়নেও বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। হাওরবাসী যে দাবিগুলো উত্থাপন করেছেন, আমি তার সঙ্গে একমত। এসব দাবি বাস্তবায়নে জাতীয় সংসদে আপনাদের পক্ষে কথা বলব এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরব।
তিনি আরও বলেন, হাওরের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় নীতিমালা অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নীতিমালার বাইরে কোনো অনিয়ম হলে ইজারাদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুজনের জেলা কমিটির সভাপতি নুরুল হক আফিন্দী। সুজন জামালগঞ্জ উপজেলা কমিটির সভাপতি মো. লুৎফুর রহমানের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সুজন জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফজলুল করিম সাইদ। এছাড়া বক্তব্য দেন হাওর অ্যান্ড ওয়েটল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির (হাউজ) নির্বাহী সদস্য সালেহীন চৌধুরী শুভ ও জেলা সুজনের সহ-সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলন।
উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জুলফিকার চৌধুরী রানা, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক স্বপন, ভীমখালী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী হোসেন, সাচনা বাজার ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য মিছবাহ উদ্দিন রুমি, জামালগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, দূর্লভপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল গাফফার তালুকদার, মঞ্জুরুল হক আফিন্দী, সানোয়ার হোসেন ও তৃষ্ণা আক্তার রোশনাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
সভায় বক্তারা হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কৃষি, মৎস্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে জাতীয় বাজেটে অধিক বরাদ্দের দাবি জানান। তারা বলেন, হাওরাঞ্চলের বিশেষ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বাজেট প্রণয়ন করা হলে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।
মতবিনিময় সভায় হাওরবাসীর পক্ষ থেকে নদী খননে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ, ফসল রক্ষায় স্থায়ী সমাধান, জলমহাল ইজারা নীতির কঠোর বাস্তবায়ন, জেলেদের মাছ ধরার অধিকার নিশ্চিতকরণ, টাঙ্গুয়ার হাওর-এর জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পাখি, মাছ ও জলজ উদ্ভিদ রক্ষায় বিশেষ বরাদ্দ, জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তির উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ বরাদ্দ এবং সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি তুলে ধরা হয়।
সভায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। তারা হাওরপাড়ের মানুষের সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে নিজেদের মতামত ব্যক্ত করেন।




























