
স্টাফ রিপোর্টার সুনামগঞ্জ: টাঙ্গুয়ার হাওরকে ঘিরে আবারও জোরালো হয়েছে সংরক্ষণের অঙ্গীকার। টানা দুই দিনে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ সভা ও কর্মশালায় হাওরের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ উঠে এসেছে। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, টাঙ্গুয়ার হাওর নিয়ে সিদ্ধান্তের অভাব কখনোই ছিল না; ঘাটতি ছিল সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নে। ফলে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা—এবার যেন সিদ্ধান্তগুলো আর কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান হয়।মঙ্গলবার (৩০ জুন) সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে “Sustainable Management of Tanguar Haor” শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ড. মো. লুৎফর রহমান। সভাপতিত্ব করেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান।কর্মশালায় টাঙ্গুয়ার হাওরের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হাউসবোটসমূহকে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় আনা,হিজল-করচসহ দেশীয় জলসহিষ্ণু বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে বনায়ন জোরদার করা,পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ)-তে ইঞ্জিনচালিত নৌযানের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ রোধ, নির্ধারিত নৌপথ অনুসরণ নিশ্চিত করা,কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধ, পরিবেশবান্ধব পর্যটনের বিকাশ,জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ,জলজ সম্পদ রক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা গবেষণাগার কার্যালয়ের পরিচালক মুহাম্মদ সোলায়মান হায়দার,পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক আবুল কালাম আজাদ,তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান মানিক এবং সুনামগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাইমিনুল হক,সিএনআরএস প্রকল্প কোর্ডিনেটর সাইফুল চৌধুরী। বক্তারা বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা,জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ টিকিয়ে রাখতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগ,কঠোর নজরদারি এবং গৃহীত সিদ্ধান্তের দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা জরুরি।এর আগে সোমবার (২৯ জুন) সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে টাঙ্গুয়ার হাওরের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিয়ে আরেকটি উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভাতেও হাওরের পরিবেশ সংরক্ষণ,অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ, পর্যটন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। টানা দুই দিনে একই বিষয়ে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।তবে পরিবেশবিদ,গবেষক ও স্থানীয় সচেতন মহলের মতে,টাঙ্গুয়ার হাওর নিয়ে অতীতেও বহু সভা-সেমিনার,কর্মশালা ও সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু বাস্তবায়নের অভাবে হাউসবোট নিয়ন্ত্রণ,ইসিএ এলাকায় আইন প্রয়োগ,অবৈধ মাছ শিকার বন্ধ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং বনায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। ফলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এই রামসার জলাভূমির জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ আজও নানা হুমকির মুখে।সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা,টানা দুই দিনের এই আলোচনা ও কর্মশালায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো এবার যেন নথিপত্রে সীমাবদ্ধ না থাকে। সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা,কার্যকর তদারকি,জবাবদিহিতা এবং আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা করা সম্ভব হবে। কারণ, টাঙ্গুয়ার হাওর রক্ষায় সিদ্ধান্ত অনেক—বাস্তবায়নই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।




























