
আজমল হোসেন হিরো সুপরিচিত একটি মুখ। যার জন্ম ও শৈশব বেড়ে উঠা চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের পেশকার পাড়া।তিনি একজন সমাজসেবক, সংগঠক এবং ক্রিড়াবিদ । তাঁর পিতা মরহুম এস. এম. আমিনুল হক (প্রকাশ কাসেম বিড়ি কোম্পানি, যা হেজু কোম্পানি নামেও পরিচিত) এবং মাতা মাবিয়া খাতুন। পরিবারে পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে বেড়ে ওঠা আজমল হোসেন হিরো ছোটবেলা থেকেই সামাজিক দায়বদ্ধতা, নেতৃত্বগুণাবলী এবং মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হয়ে উঠেন। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক (বি.এস.এস.) ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পড়া শুনার পাশাপাশী ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হয়ে সক্রিয়ভাবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকেন। তবে এলাকায় তিনি একজন সমাজকর্মী হিসেবে পরিচিতি।রাজনৈতিক জীবন ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমেই যাত্রা শুরু করেন। ১৯৯৮ সালে তিনি ৪ নং মুরাদপুর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে একই ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হন। তাঁর দক্ষ নেতৃত্ব, সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের কারণে তিনি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্বও সফলতার সঙ্গে পালন করেছেন।পরবর্তীতে তিনি উপজেলা ছাত্রদলের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে অধিষ্ঠিত হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি তৃণমূল মানুষের অধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। সমাজসেবা ও মানবিক কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ততা হয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার নিয়ে ১৯৯৭ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘মনীষা’। প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক হিসেবে তিনি সংগঠনটিকে একটি মানবিক ও জনকল্যাণমুখী প্রতিষ্ঠানে রূপ দেন। ‘মনীষা’র মাধ্যমে তিনি দীর্ঘদিন ধরে শীতবস্ত্র বিতরণ, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ সহায়তা, চিকিৎসাসেবা প্রদান, টেলিমেডিসিন কার্যক্রম, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবেশ ও জলবায়ু আন্দোলন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। বিশেষ করে করোনা মহামারির সময় তিনি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ত্রাণ বিতরণ, গ্রামে গ্রামে সচেতনতামূলক মাইকিং, টিকা কার্যক্রমে সহযোগিতা এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেন। এছাড়াও তাঁর নেতৃত্বে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পথনাটক, লিফলেট বিতরণ, উঠান বৈঠক, সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।সাংস্কৃতিক সম্পৃক্ততা তিনি সীতাকুণ্ডের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জড়িত। বৈশাখী উৎসব, একুশে বইমেলা এবং বিভিন্ন সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ক আয়োজনে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন। তাঁর বিশ্বাস—একটি সচেতন, প্রগতিশীল সমাজ গঠনে সংস্কৃতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বিভিন্ন সময় দাযিত্বপালন করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মনীষা,সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সীতাকুণ্ড এনজিও সমন্বয় পরিষদ,সাবেক দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি, এডাব (Association of Development Agencies in Bangladesh) – সীতাকুণ্ড কার্যনির্বাহী সদস্য, সীতাকুণ্ড রোগী কল্যাণ সমিতি কার্যনির্বাহী সদস্য, সীতাকুণ্ড কবিতা পরিষদ উপদেষ্টা, প্রথম প্রহর ফাউন্ডেশন উপদেষ্টা, শুক্তধারা ফাউন্ডেশন। এছাড়াও তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন এবং মানবাধিকার, পরিবেশ ও সামাজিক ন্যায়বিচার বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। সমাজসেবা ও মানবিক কর্মকাণ্ডে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন থেকে একাধিক সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট লাভ করেছেন। আজমল হোসেন হিরো বিশ্বাস করেন—জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ, সুশাসন, সামাজিক সম্প্রীতি এবং উন্নয়নমুখী নেতৃত্বের মাধ্যমে একটি আধুনিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ ইউনিয়ন গড়ে তোলা সম্ভব।দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি তৃণমূল মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করে যেতে চান।




























