
বিশেষ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার বারদী ইউনিয়ন পরিষদের আগামী নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ব্যাপক আলোচনায় রয়েছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আব্দুল আলী। দিন যত যাচ্ছে, বারদী ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মন জয় করে তিনি তাঁর জনপ্রিয়তার অবস্থান ততটাই সুদৃঢ় করছেন। মাঠপর্যায়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সাধারণ মানুষের সাথে গভীর সম্পর্কের কারণে স্থানীয় ভোটার ও দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশের নিকট তিনি একজন শক্তিশালী 'হেভিওয়েট' প্রার্থী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। আব্দুল আলী এক ত্যাগী ও ঐতিহ্যবাহী বিএনপি পরিবার, বারদী ইউনিয়নে বিএনপির রাজনীতির কথা বললেই উঠে আসে আব্দুল আলী ও তাঁর পরিবারের নাম। তিনি একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে উঠেছেন, পিতা মরহুম আব্দুর রহমান মুন্সী: তিনি বারদী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি, থানা বিএনপির সহ-সভাপতি এবং বারদী মাকসার মসজিদের সভাপতি ছিলেন। বিএনপি করার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে ২৪টি রাজনৈতিক মামলা হয়েছিল এবং তিনি ২ বার জেল খেটেছেন। বড় ভাই আব্দুল হালিম মেম্বার, বারদী ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ছোট ভাই করিম রহমান, বর্তমানে সোনারগাঁও থানা বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে নিয়োজিত আছেন। ১৬ বছরের দীর্ঘ সংগ্রাম ও নির্যাতন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দীর্ঘ ১৬ বছর নিজ বাড়িতে শান্তিতে থাকতে পারেননি আব্দুল আলী। রাজপথের এক লড়াকু সৈনিক হিসেবে প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সম্মুখভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। রাজনীতি করতে গিয়ে তিনি চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে তাঁর বিরুদ্ধে ১৮টি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয় এবং রাজনৈতিক কারণে তিনি দুইবার কারাবরণ করেন। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের হাতে তিনি ৩ বার গুরুতর শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন। সর্বশেষ তাঁর বাড়িঘরেও ভাঙচুর চালানো হয়।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে আওয়ামী লীগের লোকজন তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দুইবার লুটপাট ও ভাঙচুর করে। বর্তমানে আব্দুল আলী সোনারগাঁও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বারদী ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক হিসেবে রাজপথে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।
স্থানীয়দের মতে, এতো অত্যাচার, জেল-জুলুম এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির পরও আব্দুল আলী বারদীর সাধারণ মানুষ ও দলের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। এই ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতৃত্বকেই আগামী নির্বাচনে বারদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান স্থানীয় তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটাররা। নির্বাচনী প্রস্তুতি ও গণসংযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল আলী জানান, রাজনীতি করি মানুষের কল্যাণের জন্য, বারদী ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, মাদকমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলাই তার প্রধান লক্ষ্য। তিনি অবহেলিত মানুষের পাশে থেকে এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন করতে চান। স্থানীয় ভোটারদের মতে, আব্দুল আলী দীর্ঘদিন ধরে অত্র এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে রয়েছেন। করোনাকালীন সংকট থেকে শুরু করে যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে তিনি সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন পরম বন্ধুর মতো। ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তিত্ব ও তরুণ ভোটারের সাথে কথা বলে জানা যায়, বারদী ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, মাদকমুক্ত ও আদর্শ ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে আব্দুল আলীর কোনো বিকল্প নেই।ইতিমধ্যেই তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে গণসংযোগ, উঠান বৈঠক এবং সর্বস্তরের মানুষের সাথে মতবিনিময় শুরু করেছেন। এই যুবদল নেতার নির্বাচনী মাঠে নামার ঘোষণায় বারদী ইউনিয়নের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।




























