
মো. মুরাদ মৃধা, রাণীনগর
নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে গাছ উপড়ে পড়ে আরফাতুন (২০) নামে এক বেদে সম্প্রদায়ের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার দিবাগত রাতে আত্রাই মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল সরকারি কলেজের খেলার মাঠ সংলগ্ন বেদে পল্লীতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আরফাতুন মুন্সিগঞ্জ জেলার বিক্রমপুর এলাকার বাসিন্দা ও আরাফাত হোসেনের স্ত্রী। তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে আত্রাই এলাকায় প্রবল বেগে কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টি শুরু হয়। নদী তীরবর্তী এলাকায় পলিথিন ও বাঁশ দিয়ে তৈরি অস্থায়ী ঘরে স্বামীসহ ঘুমিয়ে ছিলেন আরফাতুন। রাতের কোনো এক সময় প্রচণ্ড দমকা হাওয়ায় একটি বিশাল ইউক্লিপটাস গাছ উপড়ে সরাসরি তাদের ঝুপড়ি ঘরের ওপর পড়ে। আরফাতুন গুরুতর আহত হলে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত আরফাতুন ও তার স্বামী আরাফাত হোসেন (২১) জীবিকার তাগিদে আত্রাইয়ের এই বেদে পল্লীতে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন। আরফাতুনের অকাল মৃত্যুতে পল্লীজুড়ে শোকের মাতম চলছে।
খবর পেয়ে সোমবার সকালে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর করিম। পুলিশ সুপার নিহতের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
পরিদর্শনকালে বেদে পল্লীর মানবেতর জীবনযাত্রা ও শিশুদের শিক্ষার অভাব দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন পুলিশ সুপার। তিনি দেখেন, পলিথিনের তৈরি ২৫-৩০টি ঝুপড়ি ঘরে অত্যন্ত মানবেতর অবস্থায় পরিবারগুলো বসবাস করছে।অন্যদিকে পুলিশ সুপারকে কাছে পেয়ে পল্লীর বাসিন্দারা তাদের জীবনযুদ্ধের গল্প শোনান। এ সময় পল্লীর শিশুদের শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত থাকার বিষয়টি তার নজরে আসে।
পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, "এখানে অনেক শিশু রয়েছে যারা কখনো স্কুলে যায়নি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি শিশুদের সাথে কথা বলেছি এবং তাদের জন্য একজন শিক্ষকের ব্যবস্থা করার কথা বলেছি, যিনি নিয়মিত পল্লীতে এসে তাদের প্রাথমিক শিক্ষা প্রদান করবেন।"
বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলেন পুলিশ সুপার। জেলা প্রশাসকও অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে শিশুদের স্কুলে ভর্তির বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। এ সময় পুলিশ সুপার সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "আমরা যেন এসব সুবিধাবঞ্চিত মানুষের প্রতি সদয় হই এবং বিপদে তাদের পাশে দাঁড়াই। একা ভালো থাকা যায় না, সবাইকে নিয়েই ভালো থাকতে হয়।"
পরিদর্শন শেষে তিনি শিশুদের খাবারের জন্য ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন। পুলিশের এই কর্মকর্তা।




































