
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাতভর চলেছে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। সকালে স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে রাজধানীর নীলক্ষেত এলাকায়।
তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়েছেন। সংবাদ সম্মেলন করে তারা ৬ দফা দাবি জানিয়েছেন। আজ সড়কে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় সকাল থেকেই পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে একণ সায়েন্সল্যাব, নিউমার্কেট এলাকায় যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে।
এদিকে রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনালের সামনে পরিবহন শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করার ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে রাজধানীর বসুন্ধরা গেট এলাকায় সড়ক খোঁড়াখুঁড়িতে রামপুরা-কুড়িল সড়কেও যানজট লেগে রয়েছে। এছাড়াও শাহবাগেও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকরা আজও অবস্থান নিয়েছেন।
সরেজমিনে রাজধানীর মহাখালী, বনানী, সাতরাস্তা, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, রামপুরা, কুড়িলসহ বেশ কিছু সড়কে গাড়ির অত্যধিক চাপ রয়েছে। এসব সড়কে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে যানবাহনগুলোকে।
আজ শাহবাগের জাতীয় জাদুঘর সংলগ্ন এলাকায় স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা জাতীয়করণের একদফা দাবিতে আবারও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকরা।
আন্দোলন বাস্তবায়ন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হাফেজ মাওলানা আব্দুল হান্নান হোসেন জানান, গতকাল সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একটি টিম আমাদের সঙ্গে দেখা করেছেন। তারা বলেছেন, আজকে দিনের মধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত আসবে। আমরা আমাদের অবস্থান কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করছি। যদি আজকের মধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি সুরাহা না করে তাহলে সামনে বড় আন্দোলনের ডাক আসতে পারে।
এদিকে আগামী চার ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ড. মামুন আহমেদের পদত্যাগ ও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ৭ কলেজের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক সম্পর্ক ছিন্ন করে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপরেখা প্রণয়ন করার আলটিমেটাম দিয়েছেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা।
এর আগে রোববার দিনগত রাত ৩টার দিকে নীলক্ষেত মোড়ে সংবাদ সম্মেলনে সোমবার সকাল ৯টা থেকে ঢাকা শহর অবরোধের ঘোষণা দেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। এজন্য সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে নীলক্ষেত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
ট্রাফিক পুলিশের দেওয়া মামলার প্রতিবাদে মহাখালী বাস টার্মিনালের সামনের রাস্তা অবরোধ করেছেন পরিবহন শ্রমিকরা। সোমবার সকাল সাড়ে নয়টা থেকে বেলা পৌনে ১১টা পর্যন্ত তারা রাস্তা অবরোধ করে রাখেন। এতে মহাখালী ও আশপাশের সড়কে তীব্র যানজট দেখা দেয়। পরে ট্রাফিক পুলিশ ও তেজগাঁও পুলিশের অনুরোধে সড়ক থেকে সরে যান শ্রমিকরা।
তবে সড়ক ছাড়লেও রাজধানীর বিজয় সরণি থেকে ফ্লাইওভার হয়ে নামা যানবাহন বামে টার্ন করলেও সামনে যানজট। আবার ডানের মগবাজার সাতরাস্তা অভিমুখে রাস্তাও পুরোপুরি বন্ধ যানজটে। অন্যদিকে মহাখালী থেকে আসা লেনও স্থবির।
রাজধানীর বসুন্ধরা গেট এলাকায় খোঁড়াখুঁড়ির কারণে রাজধানীর রামপুরা-কুড়িল সড়কে কয়েকমাস ধরে এমনিতেই যানজট লেগে থাকে। সোমবার সকাল থেকে পরিস্থিতি আরও খারাপ।
গুলশান-বাড্ডা লিংক রোড থেকে রামপুরা পর্যন্ত সড়কে ধীরে চলছে যানবাহন। মেরুল বাড্ডায় বেসরকারি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে আবুল হোটেল পর্যন্ত কার্যত থমকে আছে যানবাহনের সারি। এতে অনেকে বাস থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যের দিকে ছুটছেন।
ভিক্টর ক্ল্যাসিক পরিবহনের চালক সাইদুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন ধরে নতুনবাজার পার হওয়ার পর মালিবাগ ফ্লাইওভার পর্যন্ত জ্যাম কম ছিল। গতকাল থেকে এ রাস্তায়ও ভয়াবহ জ্যাম পাচ্ছি। আগে দিনে ৮ ট্রিপ (উত্তরা-সদরঘাট) দিতে পারতাম। এখন তো যে অবস্থা তাতে ৪ ট্রিপও হইবো না।
ঢাকার সার্বিক পরিস্থিতি জানতে চাইলে ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা কাজ করছেন।
তবে যারা সড়ক অবরোধ করছেন তাদেরকে সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন ডিএমপির এই কর্মকর্তা।







































