
রাজন আকন্দ
২৪ জুলাই—যে দিনটি ছিল আমার জীবনের এক স্মরণীয় দিন। বড় একটি প্ল্যাটফর্মে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম। দেশের বর্তমান অনেক নেতৃত্বের সঙ্গে তখন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলেছি। অথচ সময়ের ভিড়ে যেন কোথাও হারিয়ে গেলাম—নিজের জন্য কোনো কৃতিত্ব নিতে চাইনি।
৮ আগস্ট, সরকার গঠনের দিন বিদায় জানিয়ে বলেছিলাম—এ আন্দোলন বিশ্বের ইতিহাসে অনন্য উচ্চতায় স্থান পাবে। কারণ, এই আন্দোলনের প্রাণ ছিল সাধারণ ছাত্র এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছাত্রনেতারা। আন্দোলন শেষ হলে তারা ফিরে যায় নিজ নিজ জীবনে, কিন্তু থেকে যায় কিছু সম্মুখ সারির স্টেকহোল্ডার।
কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শুরু হয় নতুন খেলা—ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, চাঁদাবাজি, মামলা বাণিজ্য। অনেকেই ‘সমন্বয়ক’ পরিচয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে আমার চোখে লজ্জার কারণ হয়ে ওঠে। আন্দোলনের মূল ব্যানার ধীরে ধীরে সবার হাতছাড়া হয়, জায়গা করে নেয় সুযোগসন্ধানীরা। ভালো মানুষরা একে একে সরে দাঁড়ালেও, এখনো অনেক সৎ মানুষ রয়েছেন। তবে দুঃখের বিষয়, সংখ্যাগরিষ্ঠই হয়ে গেছে ‘জুলাই বিক্রেতা’।
গত এক বছরে জুলাইকে এমনভাবে বেচাকেনা করা হয়েছে, যা কল্পনাতীত। আমি এ সব জানি—কারণ আন্দোলনের প্রধান স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে ছিলাম, আর যারা এখন দেশ চালাচ্ছে তাদের অধিকাংশই আমার পরিচিত।
জুলাই বিক্রি হয়েছে—এই কথা আমি বহু আগে বলেছি। তার প্রমাণ জুলাই ঘোষণাপত্র, যেখানে আন্দোলনকারীদের আইনগত মুক্তি ও নিরাপত্তার বিষয়ে প্রায় কোনো গুরুত্বই নেই। তাছাড়া ঘোষণাপত্রটি সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। নির্বাচনের পর ‘জুলাই’ হয়ে যাবে শুধু একটি কাকতালীয় ঘটনা।
বাস্তবতা হলো, আন্দোলনের সামনের সারি বাদ দিলে এর ভেতরে ছিল সব বিরোধী রাজনৈতিক দলের লোকজন। ক্ষমতার মোহ ও দুষ্ট চক্রের প্রভাবে তাদের অনেককে অস্বীকার করা হয়েছে—ফলাফল আজকের এই পরিণতি।
তবুও, আমি একজন তরুণ ও সাধারণ ছাত্র হিসেবে এখনো স্বপ্ন দেখি—আমাদের দেশ হবে সুন্দর, রাজনীতিতে ফিরবে ভালো মানুষ, নেতৃত্ব দেবে এ দেশের তরুণ সমাজ। মেধাবীদের হাতে গড়ে উঠবে নতুন বাংলাদেশ। নতুন সরকারের জন্য রইল অগ্রিম শুভকামনা।





























