
নারায়ণগঞ্জে সিদ্ধিরগঞ্জের তাঁতখানা এলাকায় শুক্রবার বাদ জুমা অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে হাজির ছিলেন এলাকার শতাধিক মানুষ। তাদের মধ্যে ছিল সব বয়সী মানুষ। প্রবীণ থেকে তরুণ। তাদের ক্ষোভ স্পষ্ট। তারা প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন বাপ-দাদার পৈত্রিক জমি ও ঘর উচ্ছেদ করে হঠাৎ করেই চালু হওয়া মেট্রোরেল ও ১শ ফিট ও ২শ ফিট হাইওয়ে সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের মতে, এই প্রকল্পের কারণে শুধু ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, তাদের আবেগ, স্মৃতি এবং জীবিকার মাধ্যমও বিপন্ন হচ্ছে। “এখন আমাদের পৈত্রিক ঘর-বাড়ি উচ্ছেদ করা হবে, তাহলে আমরা কোথায় যাবে? আমাদের শিশুদের ভবিষ্যৎ কী হবে?” এমন প্রশ্ন তাদের মুখে বারবার উচ্চারিত হচ্ছিল।
মানববন্ধনে উপস্থিতরা প্ল্যাকার্ড হাতে “জমি বাঁচাও, বাড়ি বাঁচাও, মেট্রোরেল চাই না” লিখে দাবি জানান। এই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) ও ৮নং ওয়ার্ডের সৈয়দপাড়া, ভূঁইয়াপাড়া, শান্তিনগর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা।
একজন প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, ২০১৩ সালেও একই ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা হয়েছিল। তখন স্থানীয়দের প্রতিবাদের কারণে প্রকল্প বাতিল করা হয়েছিল। আমরা চাই না সেই ইতিহাস আবার পুনরাবৃত্তি হোক। আমাদের বাপ-দাদার সম্পত্তি রক্ষা করতে হবে।
জানা গেছে, ইতোমধ্যেই প্রকল্পের কর্মকর্তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মাপঝোপ শুরু করেছেন। এতে অনেক পরিবার আতঙ্কিত। কিছু পরিবার অভিযোগ করেছেন, তাদের জমি বিক্রির জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।
মানববন্ধনে বক্তৃতায় গাজী সেলিম নামে একজন স্থানীয় ব্যক্তি বলেন, আমরা মেট্রোরেল বা হাইওয়ে বিরোধী নই, তবে আমাদের জীবন, পরিবার ও সম্পত্তির ওপর যদি প্রকল্প নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তা আমরা মেনে নিতে পারি না। আমাদের শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের অধিকার রক্ষা করতে হবে।
এদিনের মানববন্ধন থেকে স্পষ্ট হলো, স্থানীয়রা বড় কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের বিরোধী নন, তবে তারা চান তা যেন তাদের জীবন ও পৈত্রিক সম্পত্তির ক্ষতি না করে। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় বাসিন্দা ডিএইচ বাবুল, সাগর প্রধান, জাহাঙ্গীর হোসেন স্বাধীন, মিয়া মুজিবসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।





























