
আরাফাত আলী, স্টাফ রিপোর্টার:
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নাজিমগঞ্জ বাজারে পেরিফেরি ভুক্ত সরকারি জমিতে রাতারাতি দোকানঘরের ছাদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। বাজার এলাকার গুরুত্বপূর্ণ অংশে কোনো প্রকার অনুমোদন ছাড়াই এভাবে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ হলেও বিষয়টি নিয়ে সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। আইনের তোয়াক্কা না করে গত সোমবার রাতের আঁধারে নাজিমগঞ্জ বাজারের প্রধান সড়কের পাশে প্রভাব খাটিয়ে দোকানঘরের ছাদ নির্মাণ করেন কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের শীতলপুর গ্রামের আলহাজ্ব আব্দুল হামিদের ছেলে, বিশিষ্ট ঠিকাদার রফিকুল ইসলাম।
নাজিমগঞ্জ বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, উপজেলা প্রশাসনকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে সোমবার রাতে দোকান ঘরের ছাদ নির্মাণের ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করেছে ঠিকাদার রফিকুল । এই সড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত প্রশাসন, পুলিশ ও বাজার কমিটির যাতায়াত, সেখানে এত বড় নির্মাণকাজ প্রশাসনের সহায়তা ছাড়া কোন প্রকার করা সম্ভব না। নির্মাণকাজ শুরুর পর একাধিকবার স্থানীয়রা মৌখিকভাবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। গত দুই দিন পেরিয়ে গেলেও
উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার বিভাগ কিংবা ভূমি অফিস কেউই এখনো পর্যন্ত সরেজমিন তদন্ত এমনকি কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।এই নীরবতা কি দায়িত্বহীনতা, নাকি প্রভাবশালীদের চাপের কাছে প্রশাসনের আত্মসমর্পণ সে প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে কালিগঞ্জ জুড়ে।
এবিষয়ে জানার জন্য ঠিকাদার রফিকুল ইসলামের ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানিয়া আক্তার জানান, নাজিমগঞ্জ বাজারে পেরিফেরি ভুক্ত জমিতে অবৈধ ছাদ নির্মাণের বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
নাজিমগঞ্জ বাজারের সাধারণ মানুষ আশঙ্কা করছেন, এই নির্মাণ বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে পুরো বাজার এলাকা পরিকল্পনাহীন দখলের কবলে পড়বে। একবার ছাদ নির্মাণ হয়ে গেলে সেটিকে স্থায়ী মালিকানা দাবির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হবে এটাই দখলবাজদের চিরাচরিত কৌশল।
নাজিমগঞ্জ বাজারের এই ঘটনা শুধু একটি অবৈধ ছাদ নির্মাণের গল্প নয় এটি প্রশাসনিক দুর্বলতা ও প্রভাবশালী দখল সংস্কৃতির নগ্ন উদাহরণ। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন নীরব দর্শক হয়ে থাকবে, নাকি জনস্বার্থ রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেবে।




























