
মোতালেব হোসেন(কুমিল্লা)।। কুমিল্লাকে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে বৃহৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার অঙ্গীকার করেছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী।সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে অনুষ্ঠিত “আমার স্বপ্ন, আমার কুমিল্লা” শীর্ষক উন্নয়ন প্রস্তাবনা উপস্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লা উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রয়েছে। এই অঞ্চলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে কুমিল্লার সার্বিক উন্নয়নে সুদূরপ্রসারী ও বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করবো।তিনি বলেন, কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন কুমিল্লাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলকে নিয়ে অবিলম্বে কুমিল্লা বিভাগ গঠন করতে হবে। আমি সংসদে গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবো।কুমিল্লা বিমানবন্দর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লা বিমানবন্দরটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। অথচ বিমানবন্দরের পাশেই রয়েছে কুমিল্লা ইপিজেড, যেখানে নিয়মিত বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যাতায়াত করেন। বিমানবন্দর চালু হলে ইপিজেডে বিনিয়োগ বাড়বে এবং এ অঞ্চলের প্রবাসীদের দুর্ভোগ লাঘব হবে। কুমিল্লা বিমানবন্দর চালু করা আমার অন্যতম অগ্রাধিকার পরিকল্পনা।সিটি করপোরেশন বিষয়ে তিনি বলেন, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার ১১ বছর পার হলেও এটি এখনো পূর্ণাঙ্গ মেগাসিটিতে রূপ নিতে পারেনি। সীমানাও বাড়ানো হয়নি। আমি নির্বাচিত হলে কুমিল্লা সিটিকে মেট্রোপলিটন সিটিতে উন্নীত করা ও সীমানা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।নগরীর যানজট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যানজট বর্তমানে কুমিল্লা নগরীর অন্যতম প্রধান সমস্যা। পুরোনো ও সংকীর্ণ সড়কে খণ্ডিত পরিকল্পনায় এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন বৃহৎ ও সমন্বিত পরিকল্পনা। শহরকে বিকেন্দ্রীকরণ করে দক্ষিণাঞ্চলে সরকারি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থানান্তর এবং উত্তরে গোমতী নদীর তীর ঘেঁষে উপশহর গড়ে তোলার মাধ্যমে নগরীর চাপ কমানো সম্ভব।পয়ঃনিষ্কাশন ও জলাবদ্ধতা নিয়ে তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কুমিল্লার নিত্যদিনের সমস্যা। পুরোনো দখলকৃত খাল উদ্ধার ও পুনঃখনন, ড্রেন প্রশস্তকরণ এবং বড় খালের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন করা যাবে। নির্বাচিত হলে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে কুমিল্লার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়েছে। জগন্নাথপুরে জমে থাকা বর্জ্য পাহাড়ের রূপ নিয়েছে, যা ওই এলাকার মানুষের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। এ সমস্যা সমাধানে আধুনিক ‘ওয়েস্ট রিসাইকেল প্রজেক্ট’ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।তিনি আরও বলেন, কোটবাড়ি ও লালমাই পাহাড়কে কেন্দ্র করে স্যাটেলাইট সিটি ও ইকো-ট্যুরিজম হাব গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ঢাকা-কুমিল্লা বিকল্প সড়ক ও সরাসরি রেললাইন (কর্ড লাইন) স্থাপনের কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। এ বিষয়ে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) অর্থায়নে সম্মতি দিয়েছে এবং সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। অচিরেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমনের সভাপতিত্বে এবং মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, সাবেরা আলাউদ্দিন হেনা, জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু, মহানগর বিএনপির সভাপতি উৎবাতুল বারী আবু, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিমসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।




























