
রাকিবুল, ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্বপক্ষের ছাত্র-জনতার গঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর দলীয় লক্ষ্য, আদর্শ ও কর্মপরিকল্পনা প্রচারে নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় পথসভা ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৬শে মে) সকাল ১০ টায় শুরু হবার কথা থাকলেও সকাল ১১ টায় ডোমার বাজার, নিউ মার্কেট, কোচ স্ট্যান্ড, বনওয়ারী মোড় ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জনসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করে এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় সাংগঠনিক টিম। পরে, বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
এসময় তিনি বলেন, "যাদের নেতৃত্বে চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, তাদের সামনে রেখে গঠিত হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। উত্তরাঞ্চলে আমাদের সাংগঠনিক নতুন যাত্রা শুরু হলো নীলফামারী জেলার মধ্য দিয়ে। আমরা দেশের প্রতিটি উপজেলায় যেতে চাই, সেখানকার মানুষের কথা শুনতে চাই এবং সেই নিরিখে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই।"
সারজিস বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতিতে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের প্রশ্নে সবাই ঐক্যবদ্ধ। তাদের ফিরে আসার সুযোগ নেই। খুনি হাসিনা ফিরলে, অবশ্যই বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর জন্যই আসবে। নিজেদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে, এমন অপ্রাসঙ্গিক কথা রাজনৈতিক দলগুলোর বলা উচিৎ না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে যারা আছে তারা কেউ সরাসরি কোনো দলের প্রতিনিধি না। অনেকেই দ্রুত নির্বাচন চায়। তবে দ্রুত নির্বাচন হবে, কিন্তু স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু ভোট হবে না, তাহলে অভ্যত্থান পরবর্তী সময়ে সেটি কলঙ্কে পরিণত হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা দেখেছি এমপি-মন্ত্রীরা মনোনয়ন কিনে দলীয় প্রভাবে নির্বাচিত হত। জনগণের কথা চিন্তা না করে উপর মহলকে তৈলমর্দন করতো। মাত্র ৫০০ বা ১০০০ হাজার টাকার বিনিময়ে জনগণকে প্ররোচিত করে নির্বাচিত হবার পর বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা বলে তারা জনগণের পকেট কেটে হাজার হাজার টাকা নিত। তরুণ প্রজন্মকে মার্কা বা দল না দেখে ভালো মানুষ নির্বাচিত করতে হবে। খারাপকে খারাপ না বললে তারা মাথায় উঠে যায়, সাহস বেড়ে যায়। প্রশাসনের কেউ হলেই স্যার বলতে হবে বা টাকা ছাড়া কাজ হবে না, এই চর্চা থাকতে দেওয়া যাবেনা। হাজার মায়ের কোল খালি করা খুনির বিচার না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যেন চিন্তা না করে অন্যকারো হাতে দায়িত্ব দিয়ে চলে যাবে। আমরা বাংলাদেশে খুনের বিচার দেখতে চাই। আমরা সিস্টেমের সংস্কার দেখতে চাই। বিগত আমলে দেখেছি দুদককে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়া হয়েছে। খুনি হাসিনা ও তার দোসররা অন্য দলের নেতৃবৃন্দকে খারাপ ভাষায় কথা বলতো। এখন দেখছি কিছু সিনিয়র নেতৃবৃন্দ একই ভাষায় কথা বলছেন। এমন কালচার চর্চা করা হলে জনগণ আপনাদের ছুড়ে ফেলবে। যোগ্য মানুষদের যোগ্য জায়গায় দেখতে চাই।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, ড. আতিক মুজাহিদ, যুগ্ম-মুখ্য সংগঠক আলী নাছের খান, সাদিয়া ফারজানা দিনা, আসাদুল্লাহ আল গালিব, আবু সাঈদ লিওন, জাতীয় নাগরিক কমিটির উপজেলা প্রতিনিধি মোহাম্মদ শরীফ হোসেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা যুগ্ম-আহ্বায়ক মাহির মুহাম্মদ মিলন, যুগ্ম-সদস্য সচিব মোঃ রবিন হাসান ডোমার উপজেলার নেতৃবৃন্দ।
ডোমারের পথসভা ও লিফলেট বিতরণ শেষে উত্তরাঞ্চলে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ডিমলায় যান তারা এভাবে নীলফামারী জেলার ছয় উপজেলায় আজকে তাদের লিফলেট বিতরণ ও পথসভা ছিল।







































