
টিপু সুলতান।।“নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করি, সুস্থ সবল জীবন গড়ি”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ভোলার চরফ্যাশনে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস–২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর অর্থায়ন ও কারিগরি সহযোগিতায় এবং পরিবার উন্নয়ন সংস্থা (এফডিএ)-এর বাস্তবায়নে ‘Special Program–Development (Agriculture)’ প্রকল্পের আওতায় ২ ফেব্রুয়ারি চরফ্যাশন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দিনব্যাপী এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।দিবসটি উপলক্ষে সকালে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি চরফ্যাশন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে। এ সময় সাধারণ মানুষের মাঝে বিষমুক্ত ফসল উৎপাদন, ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার পরিহার এবং নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা হয়। শোভাযাত্রায় স্থানীয় কৃষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।শোভাযাত্রা শেষে বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চরফ্যাশন উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এমাদুল হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবু তাহের এবং উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আব্দুল মালেক তালুকদার।অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এফডিএ’র সিনিয়র প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী শংকর চন্দ্র দেবনাথ, ঋণ সমন্বয়কারী মো. জাকির হোসেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন এফডিএ’র কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মনিরুল ইসলাম এবং সঞ্চালনায় ছিলেন এফডিএ’র মৎস্য কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইদুর রহমান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এফডিএ’র প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শাওন চন্দ্র শীল, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।আলোচনা সভায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) এমাদুল হোসেন বলেন, “একটি সুস্থ, সচেতন ও মেধাবী জাতি গঠনে শৈশব থেকেই নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।”কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবু তাহের বলেন, “ভোলার উপকূলীয় অঞ্চলে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রসারের মাধ্যমে কীটনাশকমুক্ত সবজি ও উচ্চমূল্যের ফল উৎপাদন এখন সময়ের দাবি।”উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আব্দুল মালেক তালুকদার পিকেএসএফ ও এফডিএ’র এই যৌথ উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, “প্রান্তিক পর্যায়ে নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে।”এফডিএ’র সিনিয়র প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী শংকর চন্দ্র দেবনাথ বলেন, “আধুনিক মালচিং প্রযুক্তি ও জৈব বালাইনাশকের ব্যবহার নিরাপদ খাদ্য আন্দোলনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য আন্দোলনকে ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে।”অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত রচনা ও কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এর মধ্য দিয়ে জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।




























