
শারমিন নাহার ঝর্ণা:
নারীকে উপেক্ষা করে শুধু পুরুষের সেবা ও কর্মে একটি জাতি আত্মবলে বলীয়ান হতে পারে না, জাতীয় জীবনের সার্বিক কল্যাণের জন্য নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা একান্ত আবশ্যক। দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী, তাদের বাদ দিয়ে কোন জাতির পক্ষেই উন্নতির পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই জাতীয় উন্নতির লক্ষ্যে তাদের মেধা কর্মদক্ষতা ও উদ্যমশীল মনোভাবের সুযোগ প্রদান করা আবশ্যক। সমাজ জীবনের সচ্ছলতা জ্ঞান কর্মপ্রাণ চাঞ্চল্যের জন্ম না হলে সে জাতী অচল,আমাদের দেশে নারীরা সমাজ গঠনে সক্রিয়ভাবে এগিয়ে এলে সমাজ সুনিশ্চিত উন্নতির পথে অগ্রসর হবে। শিক্ষা বিস্তার ও সন্তানের মানসিক উন্নতি সাধনে একজন নারীই অবদান বেশি।নারীরা শিশুর ভবিষ্যৎ গড়ার কারিগর। আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাকে ঠিকমত গড়ে তোলার দায়িত্ব নারীর উপর বিশেষভাবে নির্ভরশীল।
শুধু বৈষয়িক শিক্ষাই নয় শিশুর চরিত্র গঠন ও মানসিক উন্নতি অপরিহার্য। মা যদি সন্তানকে সুপথে পরিচালিত করেন তবে সে সন্তান মনুষত্ববোধে দীপ্ত হবে,শিক্ষার আলোকে উজ্জ্বল হবে। ফলে এমন সন্তানের আত্মপ্রকাশের ভেতর দিয়ে একটি সমাজ ও উজ্জ্বল জাতিসত্তা গড়ে ওঠা সম্ভবপর। একজন নারী যদি একটি সন্তানকে সুস্থ শিক্ষিত চরিত্রবান মানুষের মতো গড়ে তুলতে পারে, তবেই একটি জাতি সুগঠিত হবে।সুখী সমৃদ্ধময় জাতি গড়ে তুলতে হলে নারীর সাহায্য সহযোগিতা একান্ত অবশ্যক। তারা সেবা দিয়ে স্নেহ দিয়ে গড়ে তুলতে পারে এক কল্যাণকর রাষ্ট্র।আমাদের দেশের এখনো অনেক লোক নিরক্ষর। আমাদের দেশে এখনো শিক্ষিত নারীর সংখ্যা কম। অশিক্ষিত নারী সমাজ দেশের উন্নতি ও সমাজ গঠনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে অক্ষম। শিক্ষার প্রসার ঘটাতে পারলে সমাজের উন্নতি সাধনে তারা বিশেষ অবদান রাখতে সক্ষম হবে। আমাদের করণীয় নারীকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা একজন নারী সুন্দর সমাজ গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
ইতিহাস সাক্ষী দেয় নারী ও পুরুষের ঐকান্তিক চেষ্টা এবং পারস্পরিক নির্ভরশীলতার ভিত্তিতে ই মানব সমাজের অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। একটি সমাজের উন্নতি বর্তমান বিশ্ব নারী সমাজের উপর অনেকাংশ নির্ভরশীল। পৃথিবীতে যত লোক আছে তার মধ্যে অর্ধেক নারী, পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সমাজের বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহণ করছে। পাশাপাশি তারা সংসার ও সামলাচ্ছে। বিধাতার ইচ্ছার প্রতিফলন আদম (আঃ) আর হাওয়া(আঃ), সেই আদি মানব মানবী মাটির ধরণীতে আসেন, এখানে এসে তারা গড়ে তুলেন সুখের নীড়, সমাজের উদ্ভব তখন থেকেই। সে সমাজ গঠনে আদম (আঃ) ও হওয়া(আঃ) উভয়ের সমান অবদান ছিল এবং সেই থেকে নারী পুরুষের সম্মিলিত চেষ্টায় আমাদের সমাজ জীবনের শান্তি ও সমৃদ্ধি সাধিত হয়েছে।
তাইতো কবির চরণের সাথে সুর মিলিয়ে বলি
"কোন কালে একা হয়নিকো জয়ী পুরুষের তরবারি,
প্রেরণা দিয়াছে শক্তি দিয়াছে বিজয়ী লক্ষ্মী নারী।"
একটি সুন্দর জাতি গঠনে নারীর গুরুত্ব অপরিসীম। নেপোলিয়ন বলেছেন, আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও আমি তোমাদের একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দেব।
আমাদের দেশের নারীরা এখন অনেক অংশে এগিয়ে গেছে, সংসারের পাশাপাশি তারা বিভিন্ন চাকরি ব্যবসা-বাণিজ্য করে থাকেন। এতে করে আমাদের সমাজে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাচ্ছে। একজন নারী উদ্যোক্তা আরো কয়েকজন নারীর কর্মসংস্থান তৈরি করে দিচ্ছেন এতে করে সমাজে অনেকাংশে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। একজন শিক্ষিত নারী তার সন্তানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুললে
প্রতিটি ঘরে ঘরে যদি সুশিক্ষায় সন্তানরা বেড়ে ওঠে তাহলে আমরা সুনিশ্চিত ভবিষ্যতে একটি সুন্দর জাতি উপহার পাবো। সেই ক্ষেত্রে আমাদের নারীদেরকে আগে সুশিক্ষায় নিজেরদেরকে গড়ে তুলতে হবে।পক্ষান্তরে একজন বিকৃত মস্তিষ্কের নারী কিন্তু একজন বিকৃত মস্তিষ্কের সন্তান উপহার দেবে,সেক্ষেত্রে আমরা একটি সুন্দর জাতি গঠন করতে পারবো না, সুতরাং আমাদের নারীদের সব সময় সুন্দর মস্তিষ্কের চিন্তাভাবনা নিয়ে নিজেকে চরিত্রবান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। একজন সুন্দর চরিত্রের নারী, একটি সুন্দর চরিত্রের সন্তান উপহার দিতে পারে। আর তখনই আমরা একটি সুন্দর চরিত্রের জাতি গঠন করতে পারবো।আমাদের নারীদের উচিত জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজেদের চরিত্র মন পবিত্র রাখা। একজন নারী সুন্দর পরিবার গঠনে ও একটি সুন্দর সমাজ গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। একটি উত্তম চরিত্রের নারী গঠনেও পুরুষদের ভূমিকা অপরিসীম, নারীরা সবসময় কোমল হৃদয়ের হয়, তাদেরকে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা দিলে তারা সমাজে সুগন্ধি পুষ্পের মতো সুঘ্রাণ ছড়াবে।
সুতরাং একজন নারীর প্রতি পুরুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা সমাজ গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নারীরা মায়ের জাতি, নারীদেরকে সম্মান ও ভালোবাসা দিলে আমরা একটি সুন্দর জাতি গঠন করতে পারবো ইনশাআল্লাহ। বীজ ভালো হলে চারা ভালো হয়, একজন নারী যদি আমাদেরকে সুশিক্ষিত চরিত্রবান সন্তান উপহার দেয়, তবেই আমরা একটি সুন্দর জাতি আশা করতে পারি,আর সেটা গঠন করতে একজন চরিত্রবান পুরুষ অনুপ্রেরণা হয়ে নারীর পাশে দাঁড়ালে আমরা সুন্দর সমাজ ও সুন্দর দেশ গঠন করতে পারবো।
/শুভ্র







































