
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় জনি সরকার নামে এক মাদকাসক্ত যুবককে হত্যার পর মরদেহ ড্রেনে ফেলে দেন তার বাবা-মা। বুধবার (১৮ জুন) রাতে নিহতের বাবা করুনা সরকার ও মা অনিতা রানী সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম।
ওসি জানান, ঘটনাটি প্রথমে রহস্যজনক মনে হলেও সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে পুলিশের সন্দেহ হয় পরিবারের সদস্যদের প্রতি। পরে জিজ্ঞাসাবাদে জনির বাবা-মা হত্যার কথা স্বীকার করেন।
এর আগে মঙ্গলবার (১৭ জুন) সকালে ফতুল্লার লালখা মোস্তফার গলির পাশের একটি ড্রেন থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় জনির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের হাত-পা ছিল বাঁধা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। জনির বাবা নিজেই থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্তে জানা যায়, নিহত জনি একজন মাদকাসক্ত ও উচ্ছৃঙ্খল তরুণ ছিলেন। প্রায়ই তিনি বাবা-মাকে মারধর করতেন এবং টাকা না পেলে ঘরে ভাঙচুর করতেন। ঘটনার দিন, সোমবার রাতেও এমন আচরণ করেন তিনি।
পুলিশ জানায়, ঘটনার রাতে খাওয়া-দাওয়ার পর জনি ঘুমিয়ে পড়লে, তার বাবা রুটি বানানোর বেলুন দিয়ে ছেলের মাথা ও মুখে আঘাত করেন। এরপর শ্বাসরোধে হত্যা নিশ্চিত করেন। পরে রাত আনুমানিক ২টার দিকে ছেলে জনির মরদেহ বস্তায় ভরে নিজের মাথায় করে পাশের ড্রেনে ফেলে আসেন তিনি।
ওসি শরিফুল ইসলাম আরও জানান, গ্রেপ্তারের পর জনির বাবা-মা তাদের অপরাধ স্বীকার করেছেন। হত্যাকাণ্ডের পেছনে পারিবারিক অসহায়ত্ব ও দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ কাজ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।





























