
স্টাফ রিপোর্টার: ঈদের দিন মানেই আনন্দ,হাসি আর প্রিয়জনদের সঙ্গে মিলনের মুহূর্ত।কিন্তু সেই আনন্দঘন দিনেই সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় নেমে এলো এক হৃদয়বিদারক শোকের ছায়া। নানার বাড়ি যাওয়ার ছোট্ট স্বপ্ন আর আনন্দ নিয়ে খেয়া নৌকায় উঠেছিল ৯ বছরের শিশু সুফিয়া বেগম। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে উঠলো তার জীবনের শেষ যাত্রা—নদীর মাঝখানেই নিভে গেল একটি নিষ্পাপ প্রাণের আলো।জানা গেছে,তাহিরপুর উপজেলার লাউড়েরগড় গ্রামের বাসিন্দা সতু মিয়ার মেয়ে সুফিয়া বেগম (৯) ঈদের দিন বিকাল আনুমানিক ৪টার দিকে তার নানার বাড়ি গোটিলা যাওয়ার উদ্দেশ্যে লাউড়েরগড় খেয়া নৌকায় ওঠে। ঈদের দিনে নানার বাড়ি যাবে—এই আনন্দে উচ্ছ্বসিত ছিল ছোট্ট মেয়েটি। কিন্তু কে জানত, সেই আনন্দের পথই তাকে নিয়ে যাবে মৃত্যুর দুয়ারে।স্থানীয়দের অভিযোগ,নৌকাটিতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী ওঠানো হয়েছিল। নৌকাটি নদীর মাঝামাঝি পৌঁছাতেই হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে ডুবে যায়। মুহূর্তেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক আর চিৎকার। অনেক যাত্রী প্রাণ বাঁচাতে সাঁতার কেটে কোনোভাবে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও ছোট্ট সুফিয়া আর ফিরে আসতে পারেনি জীবনের তীরে।কিছুক্ষণ পর নদীর পানিতে ভেসে ওঠে তার নিথর দেহ। ঈদের আনন্দঘন মুহূর্তে এমন মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে স্বজনরা ভেঙে পড়েন কান্নায়। একটি পরিবারে নেমে আসে অসীম শোক,আর পুরো এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে হাহাকার।এদিকে স্থানীয়রা জানান,নৌকাটিতে আরও কোনো শিশু বা যাত্রী নিখোঁজ রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে এলাকাবাসী নদী ও আশপাশের এলাকায় খোঁজখবর নিচ্ছেন।ঈদের দিনে একটি শিশুর এমন করুণ মৃত্যুর ঘটনায় লাউড়েরগড়সহ আশপাশের এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। যে ঈদের দিনটি হওয়ার কথা ছিল আনন্দ আর ভালোবাসার, সেই দিনটিই হয়ে উঠেছে একটি পরিবারের জীবনের সবচেয়ে বড় শোকের দিনএ ব্যাপারে তাহিরপুর থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি আমিনুল ইসলাম নিশ্চিত করে জানান নৌকা ডুবিতে একজন শিশু মারা গেছে একজন আহত রয়েছে।তবে নিখোঁজ কেউ নেই।আরো আহত আছে কি-না এখনো জানা যায়নি।




























