
আরাফাত আলী,স্টাফ রিপোর্টার :
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও )অফিসের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উৎকোচ চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অজান্তে সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তার মাসুম বিল্লাহর ছত্রছায়ায় একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে ওই অফিসে। সেখানে ঘুষ বাণিজ্য চলে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এমনই অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি মাছুম বিল্লাহ এক ভুক্তভোগীর কাছে উৎকোচ চাওয়ায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ করেছেন কাঁকশিয়ালী গ্রামের মোঃ শফিকুল ইসলামের ছেলে মীম ইসলাম (২৬)।
ভুক্তভোগী অভিযোগকারী জানান , তার মাতা মোছাঃ নিলুফা ইসলামের কালিগঞ্জ উপজেলাধীন সাইহাটি মৌজায় (জে,এল নং-২০২), আরএস ৩০২ ও ৩০৩ নং খতিয়ানে মোট ১একর ২৫ শতক জমির মধ্যে ১১ শতক জমি রয়েছে। কিন্তু ওই জমি দীর্ঘদিন যাবত অন্যায়ভাবে প্রভাব খাটিয়ে উপজেলার চাম্পাফুল ইউনিয়নের উজিরপুর গ্রামের মোমরেজ আলী খার ছেলে মকবুল হোসেন খা এবং তার ছেলে মুজিবর রহমান ও মইনুর রহমান জবরদখল করে রেখেছেন। জমি ফেরত পাওয়ার জন্য ন্যায় বিচারের আশায় গত ছয় মাস আগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন মীম। ওই সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার অফিসের বাইরে থাকায় মীম অভিযোগটি জমা দেন সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাসুম বিল্লাহর নিকট। বিভিন্ন সময়ে লিখিত অভিযোগের বিষয়ে সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছে খোঁজ খবর নিলে কোন সদুত্তর না দিয়ে তার কাছে কিছু উৎকোচ দাবি করতেন তিনি। মাছুম বিল্লাহকে উৎকোচ না দেওয়ায় গত ছয় মাসে লিখিত অভিযোগটি পৌঁছায়নি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে। সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ মাসুম বিল্লাহ হয়তো তার প্রতিপক্ষ মকবুল হোসেন গংদের নিকট থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে তাদের সাথে যোগসাজ করে ন্যায়বিচার প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ মাসুম বিল্লাহ’র বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিতে যেয়ে গত ৭ আগস্ট ওই অফিসের সিন্ডিকেটের কাছে নাজেহাল হয়েছেন মীম ইসলাম। তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনুজা মন্ডল অফিসে না থাকায় তিনি অভিযোগপত্রটি প্রশাসনিক কর্মকর্তা হোসনেয়ারা বেগমের নিকট জমা দেন। অভিযোগটি পড়ে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেন তিনি। কেন মাসুম বিল্লাহ এর বিরুদ্ধে ইউএনও স্যারের নিকট অভিযোগ লেখা হয়েছে তার কৈফিয়ত চান হোসনেয়ারা বেগম। এ সময় ওই অফিসের দপ্তরী বিশ্বনাথ সরকার অভিযোগটি নিয়ে তার মোবাইলে ছবি তুলে নেন এবং অভিযোগটি জমা নেয়া হবে না বলে ফিরিয়ে দেন। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ দিতে গেলে তার কক্ষে থাকা একজন সরকারি কর্মকর্তাও অভিযোগকারী মীম ইসলামকে হুমকি দিয়ে বলেন, অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে মানহানির মামলা করা হবে। সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ মাসুম বিল্লাহ দ্বারা গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট যে কতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে তা অভিযোগ জমা দিতে গিয়ে হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মীম ইসলাম।
অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাসুম বিল্লাহ এর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এব্যাপারে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনুজা মন্ডল তার কার্যালয়ের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাসুম বিল্লাহ এর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমার কার্যালয়ে আসা জনসাধারণকে আমি সর্বদা আন্তরিকভাবে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করি। সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা দ্বারা হয়রানির অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





























