
আলমগীর হোসেন
খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার আলোকঝাড়ি ইউনিয়নের বাসুলী এলাকায় আত্রাই নদীর বুকে জেগে থাকা ছোট্ট দ্বীপাকৃতি ‘মাঝিয়ালির চর’ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর হলেও বর্ষা মৌসুমে এখানকার জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিষহ। প্রায় ২০ একর আয়তনের এ চরে মাত্র ১৩টি পরিবার বসবাস করছে। শীত ও গ্রীষ্মে চাষাবাদ, গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগি পালন করে জীবিকা চলে। কিন্তু বর্ষায় টানা বৃষ্টিতে পানি বাড়তে থাকলে চরটি চারদিক থেকে নদীতে ঘেরা হয়ে পড়ে। তখন অসুস্থ রোগী বা জরুরি কাজে পারাপারের জন্য ভাড়া নৌকার উপর নির্ভর করতে হয়, যা সবসময় পাওয়া যায় না। এতে বিলম্ব ও ভোগান্তি বাড়ে।
স্থানীয় প্রবীণ আব্দুল লতিফ বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই তারা এখানে বসবাস করছেন। বর্ষায় পানি বাড়লে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। অসুস্থতা বা প্রয়োজনে বাইরে যেতে হলে অন্যের নৌকা ভাড়া করতে হয়, কিন্তু অনেক সময় নৌকা না পেয়ে বিপাকে পড়তে হয়।
একই চরের বাসিন্দা সোহেল ইসলাম জানান, বর্ষাকালে বাজার করা থেকে শুরু করে স্কুলে যাওয়া পর্যন্ত সব কিছুতেই সমস্যা হয়। বিশেষ করে কেউ অসুস্থ হলে চিন্তা বেড়ে যায়। তাদের নিজের একটি নৌকা থাকলে এই কষ্ট অনেকটাই কমত।
আলোকঝাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান জানান, আগে তাদের জন্য একটি নৌকা দেওয়া হয়েছিল, তবে সেটি এখন অচল। ইউএনওর নির্দেশে নতুন নৌকা তৈরির কাজ চলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুজ্জামান সরকার জানান, চরবাসীর যাতায়াত সমস্যা জানার পর সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। জরুরি সময়ে তারা যাতে নৌকা ব্যবহার করতে পারে, সে বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।





























