
মোঃ জনি হোসেন করিমগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে পালিত হয়েছে "জুলাই শহীদ দিবস ২০২৬"। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আত্মোৎসর্গ কারী বীর শহীদদের স্মরণে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দিনব্যাপী নানাবিধ কর্মসূচির আয়োজন করে করিমগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন।দিবসের শুরুতে সকাল ৯ টায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদদের কবর জিয়ারত ও তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। দোয়া মাহফিলে শহীদদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন।
শহীদ মোবারক হোসেন ও শহীদ আহমেদ রুবেলের কবর জিয়ারত শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উম্মে মুসলিমার সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় সহকারী কমিশনার ভূমি করিমগঞ্জ মোঃ আল-আমিন কবির, করিমগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)মো. সোহেব খান, জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যবৃন্দ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও অংশগ্রহণকারী বীর যোদ্ধাগণ বীর মুক্তিযোদ্ধা বৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় সুশীল সমাজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বৃন্দ, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ গ্রহণ করেন।
আলোচনা পর্বের শুরুতেই জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরা তাঁদের স্বজন হারানোর বেদনাময় স্মৃতি তুলে ধরলে সম্মেলন কক্ষে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জুলাই আন্দোলনের বীর যোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য ও শহীদদের অসামান্য আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন। বক্তারা একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে মুসলিমা জুলাই শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, "জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের জাতীয় ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তাঁদের অকুতোভয় চেতনা ও আদর্শ আমাদের নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, ন্যায়বিচার এবং মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করবে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সার্বিক কল্যাণ এবং আহত ও অংশগ্রহণকারী যোদ্ধাদের পুনর্বাসনে সরকার বিভিন্ন দূরদর্শী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। করিমগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন এই বীর সন্তানদের পরিবারগুলোর মর্যাদা রক্ষা ও যেকোনো প্রয়োজনে সবসময় পাশে থাকার জন্য দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ।অনুষ্ঠানের শেষভাগে শহীদদের আত্মার শান্তি এবং দেশের সার্বিক কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়েছে।





























