
আব্দুর রশিদ মোল্লা, শ্রীপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি:
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার চরহরিন্দি চরশ্রীপুর গ্রামে পূর্বের মামলার আসামি রড নিয়ে স্কুলছাত্রকে মারার জন্য দৌড়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আতঙ্কিত অভিভাবক তার ছেলে-মেয়ের নিরাপত্তা চেয়ে চরশ্রীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চরশ্রীপুর গ্রামের অবনীন্দ্র বিশ্বাস ওরফে অবনী’র ছেলে অরূপ বিশ্বাস ৫ম শ্রেণি ও মেয়ে পূর্ণিমা বিশ্বাস ৩য় শ্রেণিতে চরশ্রীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে।
আজ বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন সকাল ৯টার দিকে অরূপ স্কুলে যাওয়ার পথে একই গ্রামের মামলার আসামি লিটন বিশ্বাস, পিতা সুকুমার বিশ্বাস রড হাতে নিয়ে তাকে মারার জন্য দৌড় দেয়। এ দৃশ্য দেখে অরূপ ভয়ে কান্না করতে বাড়িতে পালিয়ে আসে।
অবনীন্দ্র বিশ্বাস জানান, ছেলে-মেয়েকে নিয়ে তিনি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাই তাদের নিরাপদে স্কুলে আসা-যাওয়ার সুযোগ দিতে প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
শ্রীপুর আমলী আদালতের সিআর ২৬০/২৬ নং মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুন রবিবার বিকাল ৫টার দিকে চরশ্রীপুর শেখ মঞ্জু পার্কের উত্তর পাশে পাকা রাস্তার ওপর অরূপের বড় ভাই অবনীন্দ্র বিশ্বাসের ওপর হামলা হয়।
মামলার বাদী অবনীন্দ্রের বাবা অনন্ত বিশ্বাস ৮৯ অভিযোগ করেন, আসামি লিটন বিশ্বাস ৩০ ও তার বাবা শুকুমার বিশ্বাস ৫ লোহার রড দিয়ে অবনীন্দ্রকে খুনের উদ্দেশ্যে মাথা ও নাকে আঘাত করে। এতে তার মুখের ২টি দাঁত ভেঙে যায় ও নাকের হাড় ভেঙে যায়। পরে আসামিরা তার পকেট থেকে নগদ ১,১৫,০ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৩৪১/৩২৩/৩২৫/৩০৭/৫০৬(২)/৩৭৯/৩২৬ ধারায় মামলা হয়।
এ বিষয়ে চরশ্রীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোনিয়া লায়লা বলেন, “আজকের ঘটনাটি বিদ্যালয়ের বাইরে ঘটেছে। তাই আমি এ বিষয়ে কী করব তা কর্তৃপক্ষ জানে। লিটন বিশ্বাসের ছেলে ৫ম শ্রেণির অর্ঘ বিশ্বাস এর আগেও সহকারী শিক্ষিকা শাহরিমাকে গালিগালাজ করেছিল। সেদিন তাকে বুঝিয়ে সরি বলানো হয়েছিল। এখন মুখের শাসন শোনে না ছাত্ররা, বেতের ব্যবহার উঠে যাওয়ায় তারা শিক্ষকদের কথা মানছে না।”
শ্রীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুর রশীদ বলেন, “ঘটনাটি শুনেছি। প্রধান শিক্ষক সোনিয়া লায়লার কাছ থেকে ভালো করে জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”
শ্রীপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বার শ্রীকান্ত মণ্ডল বলেন, “তারা আমাকে মানে না। বিষয়টি নিয়ে দেখছি।”
শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মো. ওলি মিয়া বলেন, “সিআর মামলার বাদী অনন্ত বিশ্বাস ও তার ছেলে অরূপকে থানায় আসতে বলেছি। কেন আসামি লিটন বিশ্বাস অরূপকে রড দিয়ে মারতে গেল, বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




























