
শাজাহানপুর প্রতিনিধি বগুড়া
বগুড়া-৭ (গাবতলী–শাজাহানপুর) আসনে জামায়াতে ইসলামী ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ জোটের মনোনীত এমপি প্রার্থী গোলাম রব্বানী বলেছেন, নারীদেরকে কেউ যদি হেনস্থা বা হামলা করে, তাহলে এখন থেকে তার কঠিন জবাব দেওয়া হবে। ইসলাম নারীদের সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়েছে এবং জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে নারীরা পাবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা।
বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় শাজাহানপুর উপজেলার সাজাপুর ফুলতলা কামিল মাদ্রাসা মাঠে শাজাহানপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত মহিলা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গোলাম রব্বানী বলেন, প্রশাসনের প্রতি আমাদের জোর দাবি যারা নারীদেরকে হেনস্থা করছে, তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে নারীদেরকে সম্মানজনক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। আল্লাহর আইন চালু হলে ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় জীবন পর্যন্ত কল্যাণ নিশ্চিত হবে।
তিনি আরও বলেন, একটি দল ফ্যামিলি কার্ডের নামে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাইছে। এসব ভুয়া আশ্বাসের কোনো প্রয়োজন নেই। আমরা একমাত্র আল্লাহকেই ভয় করি, কারো হুমকি-ধামকিতে ভয় পাই না। যারা নারীদেরকে হেনস্থা করছে, তাদের বলবো আপনাদের ঘরেও মা-বোন আছে, এসব কাজ থেকে বিরত থাকুন।
জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রোপাগান্ডার সমালোচনা করে তিনি বলেন, একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে যে জামায়াতে ইসলামী নাকি বেহেশতের টিকিট বিক্রি করে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই জামায়াতে ইসলামী কোনো বেহেশতের টিকিট বিক্রি করে না। এসব মিথ্যা প্রচারণা থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ইনশাআল্লাহ, এবারের পার্লামেন্ট হবে ইসলামের পার্লামেন্ট। আমি যদি নির্বাচিত হতে পারি, তাহলে শাজাহানপুর ও গাবতলী উপজেলার বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে সর্বাত্মক চেষ্টা করবো।
শাজাহানপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সভানেত্রী মঞ্জুয়ারা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান মেহমান হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম মূখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) ডা. মাহমুদা মিতু।
তিনি বলেন, যারা নিজেদের দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তারা দেশ পরিচালনা করবে কীভাবে? আমরা ফ্যামিলি কার্ড চাই না, আমরা শান্তিতে বসবাস করতে চাই। আমাদের সঙ্গে আল্লাহ আছেন। হুমকি দিয়ে আমাদের দমিয়ে রাখা যাবে না। যেখানে হুমকি দেওয়া হবে, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ইসলাম নারীদের সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়েছে। নারীদের ভয় দেখিয়ে থামিয়ে দেওয়া যাবে না।
সমাবেশে সুমাইয়া বিনতে গোলাম রব্বানীর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সদস্য ও বগুড়া সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সাজেদা সামাদ, বগুড়া জেলা জামায়াতের মহিলা বিভাগের সভানেত্রী মাসুদা করিম, জেলা মহিলা বিভাগের কর্মপরিষদ সদস্য মাফরুহা বিউটি, সিফালী, বগুড়া জেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক রাফিয়া সুলতানা রাফি সহ শাজাহানপুর উপজেলা মহিলা জামায়াতের বিভিন্ন নেত্রীবৃন্দ।
এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুল মতিন, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের যুগ্ম মূখ্য সংগঠক সাকিব মাহদী, শাজাহানপুর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুর রহমান, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুস সালাম, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা শহিদুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি হাফেজ মোকলেছুর রহমান মুকুল, তারেকুল ইসলাম তারেক, শাজাহানপুর উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক হুমায়ূন কবির হিমু, উপজেলা ওলামা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা কাওসার আলী।
সমাবেশ শেষে সাজাপুর ফুলতলা কামিল মাদ্রাসা মাঠ থেকে দাঁড়িপাল্লা মার্কার পক্ষে এক বিশাল নির্বাচনী মিছিল বের হয়। মিছিলটি বগুড়া–ঢাকা মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় মাঠে এসে শেষ হয়।




























