
রহমত মন্ডল, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধিঃ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া সংবাদ ও অপপ্রচারের মাধ্যমে এক তরুণীকে ফাঁসিয়ে পরবর্তীতে তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ইকরচালী ইউনিয়নের শিয়ালপাড়া এলাকার লাভলু ডাকাতের ছেলে আদরের বিরুদ্ধে । ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রংপুরের একটি উপজেলার এক নারী (৩০) গত ২২ মার্চ বিকেলে কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নের স্টিল ব্রিজ এলাকায় ঘুরতে যান। এ সময় কয়েকজন বখাটে তার অজান্তে মোবাইল ফোনে ছবি ধারণ করে। ভুক্তভোগী বিষয়টি টের পেয়ে প্রতিবাদ করলে স্থানীয় ও পরিবারের হস্তক্ষেপে ধারণকৃত ছবিগুলো মুছে ফেলা হয় ও বিষয়টি সেখানেই মিটমাট হয়ে যায় ।
অভিযোগে বলা হয়, ওই ঘটনার সুযোগ নিয়ে মোঃ আদর বাবু (২৭) নামে এক যুবক গোপনে ধারণ করা ছবি ব্যবহার করে একটি অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে “অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত অবস্থায় তরুণীসহ যুবক আটক” শিরোনামে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার করে। এতে ভুক্তভোগীর সামাজিক মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়।
পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত যুবক কৌশলে পরদিন তারাগঞ্জ বাজারে দেখা করার প্রস্তাব দেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ২৩ মার্চ সকালে তারাগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে মোটরসাইকেলে করে তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়। এ সময় ভুক্তভোগী চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে মোটরসাইকেল ফেলে অভিযুক্ত দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা ও ভুক্তভোগীর পরিবারের লোকজন মোটরসাইকেলটি আটক করে থানায় জমা দেয় এবং ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
তারাগঞ্জ বাজার ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগী নারীকে মোটরসাইকেলে তুলে নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য।
ভুক্তভোগী জানান, “আমার ছবি ব্যবহার করে ‘অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত’ উল্লেখ করে একটি ভুঁইফোড় ওয়েবসাইটে লেখালেখি করা হয়। ইকরচালী এলাকার আদর নামে একজন তার ব্যক্তিগত প্রোফাইলে এসব শেয়ার করে এবং তারাগঞ্জের বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে ছড়িয়ে দেয়। কিন্তু কী প্রমাণের ভিত্তিতে সে এসব লিখেছে, তা আমি জানতে চাই। পরে সে ভুল স্বীকার করলেও আমাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করেছে এবং প্রমাণবিহীন কুরুচিপূর্ণ তথ্য ছড়িয়ে আমার জীবন বিপন্ন করে তুলেছে। এতেও ক্ষান্ত না হয়ে সংবাদ মুছে সংশোধনী দেওয়ার অনুরোধ করলে সে বিনিময়ে শারীরিক সম্পর্কের শর্ত দেয় এবং গায়ে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। বিভ্রান্তিকর লেখালেখির প্রকৃত সত্যতা জাতির কাছে স্পষ্ট না হলে এবং আমি সুষ্ঠু বিচার না পেলে আমার আত্মহত্যা ছাড়া কোনো পথ খোলা থাকবে না।”
উপজেলার কয়েকজন সচেতন অভিভাবক জানান, এ ধরনের অপপ্রচার অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মিথ্যা তথ্য লিখে এবং একজন নারীর ছবি এভাবে ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে ভুক্তভোগী আত্মহত্যাপ্রবণ হয়ে উঠতে পারেন। আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে এমন মানহানি ও নারীর প্রতি সহিংসতার জন্য কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।
তারাগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন জানিয়েছেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




























